‘মেশিনে জং পড়ছে, আর আমরা বিদেশ থেকে সুতা আনছি’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) বর্তমান সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আমার মেশিনে জং পড়ছে। আর আমি বিদেশ থেকে কম দামে সুতা ইমপোর্ট করছি।’
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সোয়া ৮টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এনটিভির স্টুডিওতে শুরু হওয়া ‘কেমন বাজেট চাই’ অনুষ্ঠানে বিটিএমএ সভাপতি এই কথা বলেন।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘গতকাল আমার ফ্যাক্টরিতে ১৩ ঘণ্টা গ্যাস ছিল না, এর আগেও ছিল না। এটা আমার না, সব ব্যবসায়ীদের ব্যাপার। আমাকে যদি প্রশ্ন করেন বাজেট কেমন দেখতে চাই; আমি এককথায় বলব, একটা গ্রহণযোগ্য বাজেট দেখতে চাই। এইবার অন্তত একটা গ্রহণযোগ্য বাজেট দেখতে চাই।’
বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, ‘বাজেটের সঙ্গে আমি দুটো জিনিস ডিমান্ড করি। বাজেটে দুটো লক্ষ্য থাকা উচিত—একটি শর্ট টার্ম ও আরেকটি লং টার্ম। লং টার্মে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি শিক্ষা, যেটা চ্যালেঞ্জ করার কোনো অবকাশ নেই। আমরা দিচ্ছি মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ, এটাও যথাযথ। এছাড়া প্রাধান্য দিচ্ছি কৃষি। এর পাশাপাশি আপনার আরও কিছু করণীয় আছে। আপনাকে শিল্প নিয়েও চিন্তা করতে হবে। শুধু বাজেট না, বাজেটের সঙ্গে পলিসি রিফর্মও চিন্তা করতে হবে।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আমি একটি ছোট পলিসির উদাহরণ দিই। আমরা যারা টেক্সটাইল খাতে আছি, তারা মূলত তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্পের সহযোগী হিসেবে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো আমরা এমনভাবে সুতা উৎপাদন করব, যেন গার্মেন্টস মালিকরা হাত বাড়ালেই তা সহজে পেয়ে যান। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার আমাদের বিভিন্ন সময়ে অনেক সুবিধা দিয়েছে; যার মধ্যে ক্যাশ ইনসেনটিভ, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা অন্যতম। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়েছে শুল্ক নীতি নিয়ে। যেমন—তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তুলা আমদানিতে ২ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা মূলত সুতা আমদানিতেই উৎসাহ দেয়। এতে পরোক্ষভাবে বার্তা দেওয়া হয় যে, দেশে কারখানা করার দরকার নেই, বিদেশ থেকেই সুতা নিয়ে আসো। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের (আরএমজি) কর্পোরেট ট্যাক্স মাত্র ১২ শতাংশ, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিটিএমএ সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি দেশীয় সহযোগী শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করছি, নাকি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি? পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকার সুতা আমদানি হয়েছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকায়। অথচ আমাদের নিজেদের মেশিনগুলো অলস পড়ে থেকে জং ধরছে। বিদেশ থেকে যে সুতা আমরা আনছি, তা আসলে সস্তা নয়; বরং ওসব দেশে ওই সুতার ওপর বড় অংকের সরকারি প্রণোদনা দেওয়া থাকে। আমাদের সরকার শিল্প বাঁচানোর কথা বললেও বাস্তবে কোনো পলিসি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু উদ্যোগ নিতে চাইলেও তাতে গতি নেই। আমাদের দেশের অবস্থা এখন এমন—রাস্তায় যখন জ্যাম লাগে, তখন যে গাড়িটি ভুল পথে (উল্টো পথে) সবার আগে চলে যায়, তাকেই আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কারণ তাকে আগে না ছাড়লে পুরো রাস্তা জ্যামে আটকে থাকবে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, যে লোকটা ২০ বছর আগে ক্যাপিটাল মেশিনারিজের জন্য টাকা নিয়ে সমস্ত টাকা ব্যাংকে ফেরত দিয়েছে, আজকে তার নতুন মেশিন লাগবে। তার অ্যাসেট ১০০০ কোটি, কিন্তু তার ১০০ কোটি টাকা লাগবে দাঁড়াতে। বাজেটের পাশাপাশি আমি পলিসি ডিমান্ড করি।

নিজস্ব প্রতিবেদক