খণ্ডখণ্ড করে আস্ত গাড়ি আমদানি, ধরা পড়ল কাস্টমস গোয়েন্দার তদন্তে
মোংলা বন্দরে খণ্ডখণ্ড করে আনা আস্ত বিলাসবহুল চার গাড়ি আমদানি কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এগুলো ব্যবহৃত গাড়ি যন্ত্রাংশ ঘোষণা করে আনা হয়েছে। খণ্ডখণ্ড অবস্থায় আনা চারগাড়ি হলো- রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোংলা বন্দরে বিলাসবহুল গাড়ি ৩ থেকে ৪টি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন (এসকেডি) অবস্থায় আমদানি করা একটি চালান আজ শনাক্ত করেছে সিআইআইডি। শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তাসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এই চালান থেকে চার গাড়ির খণ্ডখণ্ড যন্ত্রাংশ শনাক্ত করা হয়। চলানটি আমদানিকারক হলেন ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনাল। রাপ্তানি করেন জাপানের মাহি কার পোর্ট।
ওই চালানটিতে ১৪টি আইটেমে ১৬৪ প্যাকেজ। এতে ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিন লাগানো গিয়ার অ্যাসি, সাসপেনশন শক অ্যাবজরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিয়ারিং হুইল, বাম্পার, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল, ডিফারেনশিয়াল ও এক্সেল অ্যাসিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ঘোষিত ওজন প্রায় ১০ হাজার ২২০ কেজি।
সিআইআইডি মহাপরিচালক নিকট প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে মোংলায় এ চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরবর্তীতে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআইয়ের সহায়তায় গাড়িগুলোর শনাক্ত করা হয়।
পরীক্ষায় ঘোষিত পৃথক গাড়ি যন্ত্রাংশের বিপরীতে ওয়্যারিং হারনেস, সেন্সর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় ফ্রন্ট কাট, সম্পূর্ণ রিয়ার ও টেইল কাট, ফ্রন্ট ও রিয়ার বডি কাট এবং রুফ কাট প্যানেল অ্যাসেম্বলি পাওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়। এসব অংশ পুনরায় সংযোজন করলে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে।
গাড়িগুলো হলো- রেঞ্জ রোভার ভোগ, মডেল বছর ২০২১৭ (যুক্তরাজ্য)। যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ থেকে এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, মডেল বছর ২০১০ (জার্মানি)। বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৯০ টাকা লাখ টাকা। লেক্সাস এলএক্স৫৭০, মডেল বছর ২০২১৬ (জাপান), বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি থেকে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি। টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট জিআরএস২০৪ (জাপান)। বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।
চার গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি থেকে ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে পুরো চালানটি ১৪ ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে চালানে মূল্য দেখানো হয় মাত্র সাত হাজার ৯৩৫ মাকিন ডলার। ঘোষণার বিনিময় হার প্রতি ১২২ দশমিক ৭৪৩৩ ডলার এবং অন্যান্য ব্যয় ১৯ হাজার ৫৭৭ টাকা ৫৬ পয়সা ধরে চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এর বিপরীতে ঘোষণায় মোট শুল্ক-কর ছয় লাখ সাত হাজার ৩৯৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং ডিএফ/সিভিএটি/এফপি দুই হাজার ৬৩৩ টাকা ৩৬ পয়সাসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখানো হয় ছয় লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। প্রায় ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তার বেশি সম্ভাব্য বাজারমূল্যের চারটি বিলাসবহুল গাড়ির অপরিহার্য ধরে সম্পন্ন অংশকে ব্যবহৃত গাড়ি যন্ত্রাংশ হিসেবে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখিয়ে আমদানি করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক