জামানত ছাড়াই তরুণ উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা
উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রকল্পের নীতিমালা মতে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী উদ্যোক্তারা এই অর্থ সুবিধা পাবেন।
বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা হবে ঋণ। আর ঋণের সমপরিমাণ অর্থ অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান পাবেন উদ্যোক্তারা। ঋণ ও অনুদানের অর্থ একইসঙ্গে এককালীন দেওয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।
ঋণ হিসেবে দেওয়া অর্থ পরিশোধ না করলে অনুদান হিসেবে দেওয়া অর্থের পুরোটা ঋণে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ অনুদান নিশ্চিত করতে ঋণের পুরোটা পরিশোধ করতে হবে উদ্যোক্তাকে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সার্কুলার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্ট-আপ উদ্যোগসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসা এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। আইনে নিষিদ্ধ কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবে না।
ঋণ পেতে প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ও ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পাওয়া যাবে বলা হয়। উপজেলা পর্যায়ে সব ব্যাংক আবেদন গ্রহণ করলেও একটি ব্যাংক লিড হিসেবে কাজ করবে। আবেদন যাচাই-বাছাই করবে জেলা পর্যয়ে লিড দেওয়া ব্যাংক। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে উদ্যোক্তরা ঋণের জন্য মনোনীত হলে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করবে ব্যাংক।
ঋণ পেতে যোগ্যতা: প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিক আলোচ্য কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে; উদ্যোক্তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে; উদ্যোক্তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ/ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে বা নতুন ব্যবসা স্থাপনের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে; ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উদ্যোক্তা কর্তৃক যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে; ইতোপূর্বে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবেন না; কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবেন না। সিআইবি যাচাইয়ে খেলাপি প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে; সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না এবং অসত্য তথ্য প্রদান বা অন্যের ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে, আবেদনটি যেকোনো পর্যায়ে বাতিল এবং আবেদনকারীকে কালো তালিকাগুক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক