বিমা দাবি পরিশোধ বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় আইডিআরএ
দেশের বিমা খাতে পলিসিধারীদের অপরিশোধিত দাবি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এই দাবি দ্রুত নিষ্পত্তিসহ বিমা পলিসি দাবির পরিশোধ বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএর কনফারেন্স রুমে দ্বিতীয় দফায় অপরিশোধিত দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
পলিসিধারীদের অপরিশোধিত দাবি কমানোর লক্ষ্যে বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক, বিমা পরিশোধে বাধা চিহ্নিতসহ সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিমা খাতে বর্তমানে পলিসি ডিসপোজাল রেট ৫৭ শতাংশ, যে শিল্পে ডিসপোজাল রেট ৫৭ শতাংশ, সেখানে বকেয়া দাবির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, পুরো বিমা খাতের মোট বকেয়া বা অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগকে দুটি সমান্তরাল ধারায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, প্রথমত বিভিন্ন বিমা কোম্পানির সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান ‘গভর্ন্যান্স রিভিউ মিটিং’ করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলো কেন পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধ করছে না বা কোন ধরনের সমস্যার কারণে বকেয়া দাবি আটকে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দাবি পরিশোধে জটিলতা রয়েছে জানিয়ে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু আনুষঙ্গিক বা বিশেষ ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর কারণে দাবি পরিশোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এসবিসির সঙ্গে কিছু বিষয় রয়েছে। সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধে বাধা হয়ে না থাকে।
সাত-আটটি বিমা কোম্পানিকে তুলনামূলকভাবে ‘ডিস্ট্রেসড’ বা সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, এসব কোম্পানির আর্থিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে। তবে শুধু ওই সাত-আটটি সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিকে কেন্দ্র করেই আইডিআরএর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। তার ভাষ্য, প্রায় ৭২টি কোম্পানির মধ্যে মাঝারি পর্যায়ে থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দাবি পরিশোধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক