সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফুয়াং ক্লাবসহ চার প্রতিষ্ঠানে অভিযান
অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎসসহ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফুয়াং ক্লাবসহ চার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর চারটি হোটেল বারে একযোগে অভিযান চালানো হয়। হোটেল বারগুলো হলো- ফু-ওয়াং রোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস, রক্যানভাস রেস্তোরাঁ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ। এসব বার থেকে অননুমোদিত ৮৬৭ লিটার দেশি-বিদেশি মদের বোতল জব্দ করেছে। তবে কাউকে আটক করেনি।
শনিবার রাতে আগারগাঁয়ে রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলেনে এসব কথা বলেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।
৪ হোটেল বারের পৃথক পৃথক মালিক, অভিযান থেকে সবধরনের আমদানি, বিক্রয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেন, গুলশানের ফু-ওয়াং রোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অনুমোদনহীন ২৩০ লিটার মদের বোতল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জিনসেংসহ এক কেজি জাফরান জব্দ করা হয়েছে। জিনসেং ও জাফরান পণ্যের আমাদিনর বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফু-ওয়াংয়ে অভিযানকালে একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে ২৩০ মদের বোতলগুলো প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে নেওয়া হচ্ছিল। ওই গাড়িসহ মদের মজুত জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ফু-ওয়াং রোলিং ছাড়াও উত্তরায় অভিযানে মার্গারিটা লাউঞ্জ থেকে অনুমোদনবিহীন ৬০৮ লিটার মদের বোতল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ লিটার দেশীয় মদ রয়েছে। এসবের বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি। এছাড়া গুলশানে র-ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট অভিযান চালিয়ে ২৯ লিটার অনুমোদনহীন মদের বোতল জব্দ করা হয়েছে। তেজগাঁয়ে হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনাল, যা আইএইচজি হোটেল এন্ড রিসোর্ট এর অধীনে পরিচালিত। কিন্তু এই হোটেলে যে বারটি পরিচালিত হচ্ছে তা অন্য হোটেলের নামে। হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল নামে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযান প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলেনে এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীতে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎস, কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে চারটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে এনবিআর। এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের মজুদ, পণ্যের বৈধ উৎস, আমদানি ও ক্রয়-সংক্রান্ত দলিল এবং প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
তারা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য রাজস্ব ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য সিআইআইডি চারটি পৃথক টিম গঠন করে। এসব টিমের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট, কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নিয়েছে। সহায়তার ছিলেন সহায়তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক