সম্মেলন চায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের একাংশ
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের একাংশ। এই অভিযোগে তারা শীর্ষ দুই নেতার পদত্যাগ দাবি করে ৩০তম সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিতদের একাংশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিতমুক্ত ও শুদ্ধিকরণের নামে চলমান অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. আহসান হাবীব।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি বলেন, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায়’ আমাদের ২১ জনকে অব্যাহতি দেয়। কাউকে কমিটি থেকে অব্যাহতি দিতে হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ, নির্বাহী সংসদের অধিবেশনসহ সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অথচ আমাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই এবং পরবর্তীতে ঠিক কোন কারণে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কিছুই জানোনো হয়নি, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে বারবার জানতে চাইলেও তারা আমাদের শুধু উপরমহলের অজুহাত দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে উপরমহল তথা আওয়ামী লীগের চার নেতাকে আমরা বিষয়টি জানালে তারা সমস্যার সমাধান না করে আমাদের শুধু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গেছেন।
মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি যে ৬৮টি শূন্য পদ পূরণ করা হয়েছে, যদিও ২০১৯ সালের অব্যাহতি তালিকায় সর্বমোট ৩২টি শূন্যপদ ছিল। কীভাবে এই ৬৮টি শূন্যপদ তৈরি হলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার নাম করে এই ৬৮টি জনের মধ্যে আবারও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মাদকাসক্ত, বয়সোত্তীর্ণ, চাঁদাবাজির কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত, বহিষ্কৃত, বিবাহিত, চাকরিজীবী, মামলার আসামিসহ গঠনতন্ত্র বিরোধী অনেকেই রয়েছে। এটা স্পষ্টতই আমাদের সঙ্গে একটা প্রহসন।
এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলন থেকে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ত্যাগী ও বিদ্যমান কমিটির সিনিয়র নেতাদের অবমূল্যায়ন, তৃণমূলে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিটে দীর্ঘদিন যাবৎ সম্মেলন দিতে না পারা, নেতা-কর্মীদের সময় না দেওয়া, নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন, নিজস্ব লোককে পদ দেওয়ার মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের পদত্যাগ এবং অতিসত্বর ৩০তম সম্মেলনের দাবি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা