‘মঙ্গল শোভাযাত্রার দেশে তরুণরা অমঙ্গল করতে পারে না’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, যে দেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়, সে দেশের তরুণরা অমঙ্গল করতে পারে না।
আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ‘এসো গাহি মঙ্গলের জয়গান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ কথা বলেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ যে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে, তা সম্প্রতি ইউনেসকোর ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিটি অব আইসিএইচ কর্তৃক ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃত ও তালিকাভুক্ত হওয়ায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন।
উপাচার্য বলেন, সংস্কৃতিবোধ মানবতাবোধকে উদ্বুদ্ধ করে। সংস্কৃতি মানুষকে মনুষ্যত্বে পরিশীলিত করে। আজকেও দেশে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুপ্রেরণা নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাংস্কৃতিক শক্তিকে ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের সূচনালগ্নে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, বিশেষত ১৯৮৬-১৯৮৭ সালের চারুকলা শিক্ষার্থীদের এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে সহায়তা করায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমিকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অনুষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিতদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক রফিকুন নবী।

ঢাবি সংবাদদাতা