রাবিতে নিয়োগে ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। আজ শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন এসব শিক্ষার্থী।
গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটালগ, ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটর ও গ্রন্থাগার সহকারীসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা বন্ধ করতে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও ফটকগুলোতে তালা মেরে দেন। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে ও বের হতে বাধা দেন। গত ২১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়া ও মালি পদের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ।
গতকাল শুক্রবার রাবির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে স্থানীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া, বিভিন্ন ভবনসহ ফটকগুলো তালা দেওয়া, উপ-উপাচার্যকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো রাবিতে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা বজায় রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ টিএসসি ভবন নির্মাণ করতে হবে এবং ছাত্র-সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
মানববন্ধনে রাবি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘পাকিস্তানিরা যখন বাঙালিদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল সে সময় রাজাকাররা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগও ঠিক একইভাবে গতকাল বহিরাগত সন্ত্রাসীদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেছে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না, আপনারা ছাত্রদের প্রতিনিধি।’
আবদুল মজিদ অন্তর আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে আমাদের দেখতে হয়, বহিরাগত টোকাইরা অ্যাকাডেমিক ভবনে এসে তালা লাগিয়ে যায়। যারা ভবনগুলোতে কী লেখা আছে তা পড়তেই জানে না! ভাবতে কষ্ট হয়, ওই বহিরাগতদের কাছে আমাদের আইডি কার্ড দেখাতে হয়, অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে হয়। এর চেয়ে লজ্জার কী হতে পারে!’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মন রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর আমাদের জেলখানার আসামির মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেতাদের তেল মালিশ করতে পছন্দ করে। তেল মালিশ করে তারা ক্ষমতায় আসে বলেই গতকাল আমাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতো না। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন থাকে। আপনারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সুষ্ঠু বিচার করুন।’
মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রদীপ মার্ডি বলেন, ‘আজ এমন একটি সংকটময় সময়, যখন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসহ প্রধান ফটকগুলো অবরুদ্ধ করে। উপ-উপাচার্যকে হুমকি দেওয়া, প্রধান ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হলো, অথচ প্রশাসন কেন নীরব ভূমিকা পালন করল। অন্যদিকে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করলে পুলিশ প্রশাসন আমাদের বাধা দেয়, গুলি চালায়।’

রাবি সংবাদদাতা