কার বাসে কে চড়ে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বাস মাত্র ১৪টি। যেগুলোতে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাগবে সম্প্রতি দুটি নতুন বাস উপহার দেয় মেঘনা গ্রুপ। কিন্তু সেই বাসে ওঠার সৌভাগ্য হয়নি শিক্ষার্থীদের।
সেই দুটি বাস ব্যবহার করছেন শিক্ষকরা। আর শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন তাঁদের ব্যবহার করা পুরোনো দুটি বাস।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবহন সংকট নিরসনে গত বছরের ২২ নভেম্বর মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমানের হাতে নতুন দুটি বাস ও দুটি মাইক্রোবাসের চাবি তুলে দেয়। এর মধ্যে নতুন দুটি বাস শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন দুটি মাইক্রোবাস ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার দেওয়া নতুন দুটি বাসও ব্যবহার শুরু করেন। বিনিময়ে শিক্ষকরা তাদের ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বাস শিক্ষার্থীদের জন্য ছেড়ে দেন। বিষয়টি জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
ফেসবুকে জবির এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, কত নির্লজ্জ হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস শিক্ষকরা দখলে নিতে পারেন। এত ছোট মন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন ওই শিক্ষার্থী।
আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘আমাদের নতুন বাস যদি ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে প্রস্তুত আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জেসমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পুরাতন লক্কড়-ঝক্কড় বাস দিয়ে নতুন বাস নেওয়ার আগে শিক্ষকদের একটু ভাবা উচিত ছিল। কারণ আমরা তাঁদেরই সন্তান।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি এম এ মুজাহিদ অনিক বলেন, ‘শিক্ষকরা যে কাজটি করেছেন তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমাদের দাবি, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বাস তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক, অন্যথায় আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
জবির পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবহন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন দুটি বাস শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষকদের ব্যবহার করা দুটি বাস শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ঠকানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে পরিবহন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শাহ আলম ব্যাপারী, জবি