রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের ‘সিট দখল’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ছাত্রলীগ সিট দখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হল প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবিও দিয়েছেন তাঁরা।
ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলামের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
হলে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা সাধারণ ছাত্রীদের বৈধ সিট থেকে উঠিয়ে গণরুম কিংবা মেঝেতে থাকতে বাধ্য করেন। কিছুদিন ধরেই ছাত্রলীগের দুই নেত্রীর অনুসারীরা ব্যাগ, তোশকসহ বিভিন্ন কক্ষে স্থায়ী আস্তানা গাড়েন।
সম্প্রতি কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী হল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে বলেন, মূল ভবনের ৩, ৭, ২৩ ও ৪২ নম্বর কক্ষ এবং বর্ধিত ভবনের ২১, ২৪, ৩০, ৫৩ ও ৮১ নম্বর কক্ষে অবৈধ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। এ ছাড়া সিট দখলের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হলের সাধারণ ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। পরে ছাত্রলীগ ও সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে হল মিলনায়তনে আলোচনা করেন হল প্রাধ্যক্ষ। তিনি ছাত্রলীগকে সাধারণ ছাত্রীদের কক্ষ ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু এতেও কক্ষগুলো দখলমুক্ত হয়নি।

গতকাল শুক্রবার প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন ও আবাসিক শিক্ষকরা সিটগুলো দখলমুক্ত করতে যান। এ সময় তাঁরা ছাত্রলীগকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। পরে শিক্ষকরা ওই কক্ষগুলো দখলমুক্ত না করেই ফিরে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পর ছাত্রলীগ নেত্রীরা গভীর রাতে আলোচনায় বসেন। ওই আলোচনায় পার্শ্ববর্তী শামসুন্নাহার ও সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আনার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ওই দুই হল ও ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সমন্বয়ে শুক্রবার বিকেলে রোকেয়া হলের সামনে শোডাউন করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রোকেয়া হলের ছাত্রলীগ সভাপতি লিপি আক্তার। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বর্ধিত ভবনের ৩০ নম্বর রুমে আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মী ছিল। ও অতিথি নিয়ে আসলে রুমের অন্য ছাত্রীরা ঝামেলা করে। একপর্যায়ে রুমের মেয়েরা বাম দলের নেত্রী উম্মে হাবিবা বেনজিরের কাছে যান। এর পরই ঝামেলার সূত্রপাত হয়।’
লিপি আক্তার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয়ে বাম দলের কর্মীরা রুমগুলা দখল করেছেন। তাঁদের একক রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ করব।’
এ বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘ছাত্রলীগকর্মীরা কক্ষ দখলের হুমকি দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ করেছেন। এ আন্দোলনে আমরাও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ঢাবি সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, রুমের একটা সিটের বিষয় নিয়ে ছাত্রীদের নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং প্রশাসন যেভাবে চাইবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগও সেভাবে চলবে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে প্রাধ্যক্ষের কাছে যান। ছাত্রীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- অবৈধভাবে রুম দখল করা চলবে না, রাজনৈতিক নেতাদের আলাদা রুম করে দেওয়া, ভবিষ্যতে কক্ষ দখল করার চেষ্টা না করা, প্রাধ্যক্ষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া এবং অতিথিদের থাকার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করা। শনিবারের মধ্যে দাবি না মানলে রোববারে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে যাবেন বলেও জানান।
কিন্তু প্রাধ্যক্ষ নাজমা খাতুন বিষয়টি সমাধানের জন্য সময় চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ছাত্রীরা।
এ ব্যাপারে হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, ‘রোকেয়া হলের সিট ঝামেলা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের সঙ্গে বসেছিল। ওখানে যেহেতু হল প্রশাসন আছে, সেহেতু আমাদের এখন কোনো করণীয় নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা