কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অবরুদ্ধ উপাচার্যের কার্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ দিন লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের পর গত ৮ মার্চ থেকে উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষক সমিতি।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য ও আত্মীয়করণের অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবিতে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক সমিতি। অবরুদ্ধ করে রাখায় উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এদিকে, উপাচার্যকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য আগামীকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষক সমিতিকে সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। আজ রোববার ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় এক সমাবেশ থেকে এ সময়সীমা বেঁধে দেন ছাত্রলীগ নেতারা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য ও আত্মীয়করণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে গত ৭ মার্চ উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি। এরপর থেকে আজ রোববার পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখায় উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফ কার্যালয়ে আসতে পারেননি।
এর আগে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে শিক্ষক সমিতি। তারপরও ১০ মার্চ উপাচার্য তাঁর বাসভবনে সিন্ডিকেট সভা করেন বলে শিক্ষক সমিতির অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান সিন্ডিকেট সভায় যোগ দিতে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা হয়।
শিক্ষক সমিতির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের অপমান করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতিরও সমর্থন করছেন।
গত ১৩ মার্চ উপাচার্যের দ্রুত অপসারণ দাবিতে ক্যাম্পাসের ফটকে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির উপাচার্যবিরোধী কর্মসূচিতে প্রথম থেকেই একাত্মতা পোষণ করে তাতে অংশগ্রহণ করে আসছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
এদিকে গত ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ শিক্ষক সমিতির নেতাদের ওপর হামলা করেন।
তবে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের এমন কোনো কথা হয়নি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্মসূচিতে নেমেছি। অন্যায়কে মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষক সমিতি একটি বিধিবদ্ধ সংগঠন এবং এ সংগঠনের কর্মসূচি সংগঠন যেমন চাইবে তেমনই হবে। উপাচার্যকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই এলাহী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিরতা চলছে, আমরা চাই সেটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে আমরা শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।’
এদিকে, প্রথম থেকেই শিক্ষক সমিতির আন্দোলনে সব শিক্ষক নেই বলে দাবি করে আসছেন উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক শিক্ষক আমার অপসারণ চায়। আমি কেন তাদের কথায় চলে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা