মুখে কালো কাপড় বেঁধে জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করা হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মুখে কালো কাপড় বেঁধে আড়াই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পুলিশের হামলার বিচার ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ তদন্ত কমিটি বাতিল করতে হবে।
মিছিল-সমাবেশে শিক্ষকদের মধ্যে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক কামরুল আহসান, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিসা পারভীন জলি, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার আশরাফুল মুনিম উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে, মামলা দিয়ে, পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে যে অন্যায় করেছে স্মরণকালে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেনি। প্রশাসন একবার বলছে, মামলার বাদী রেজিস্ট্রার; আবার বলছে- পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমরা মামলা প্রত্যাহারে প্রশাসনের কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই মুহূর্তে প্রশাসন মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌহিদ হাসান শুভ্র বলেন, ‘যে প্রশাসনের সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করল, পুলিশের হাতে তুলে দিল, সেই সিন্ডিকেট সদস্যদেরকে দিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। এই কমিটি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া সম্ভব নয়। আমরা এই তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি। সুষ্ঠু তদন্ত করতে চাইলে নিরপেক্ষ শিক্ষকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি পুনরায় গঠন করতে হবে।'
গত ২৬ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস চাপায় জাবির দুই ছাত্র নিহত হন। এর প্রতিবাদে ২৭ মে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারী ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ও ৪২ শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জাবি সংবাদদাতা