তদন্ত কমিটিতে ‘ভরসা পাচ্ছেন না’ শিক্ষার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট অধিবেশন চলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের হাতাহাতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার তিন সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে নিজেদের প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একসঙ্গে কমিটির কাজে ‘ভরসা পাচ্ছেন না’ তাঁরা।
ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক মাছুদ আল মাহদী বলেন, ‘বিশেষ সিনেট অধিবেশন চলাকালে সিনেটের সামনে দাঁড়িয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকেই সিনেট ভবন চত্বরে ঢোকার মূল ফটক তালা মেরে রাখে।’
মাছুম আলী বলেন, তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করলে সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম; যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মো. মাহমুদুর রহমান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী শিক্ষক অধ্যাপক মিনা মাহবুব হোসেনসহ ১৫-২০ জন শিক্ষক সেখানে মারমুখী অবস্থান নেন।
মাহদী আরো বলেন, ‘তালা ভেঙে আমরা ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধা দেয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দুজন শিক্ষক (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এসে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। এতে সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হন। এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটির মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাউকে রাখা হয়নি।’
শিক্ষার্থীদের এই নেতা আরো বলেন, ‘যাঁদের তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে, তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর। আর হামলাকারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত। তাই এটা প্রহসনের তদন্ত কমিটি। এই কমিটিতে আমরা ভরসা পাচ্ছি না।’
ঘটনার দিন শিক্ষার্থীদের এমন দাবি নিয়ে আন্দোলনের বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ। তিনি বলেছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি একটি নিন্দনীয় বিষয়।
এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনির হোসাইন লাঞ্ছিত করেন আন্তর্জাতিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মাদ তানজিমউদ্দিন খানকে। ওই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনে সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। তারা আবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে আশা করা যায় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, ‘আমরা সব কিছু খুঁজে বের করতে চাই। এ ঘটনার জন্য শিক্ষক না ছাত্ররা দোষী। তবে যেই দোষী হোক তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘মিডিয়া এ ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একটা চরিত্র বানানো যায় সেভাবে নিউজ করা হয়েছে। তো সব কিছু নিয়েই এগুলো বের করার জন্য আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আর কমিটিতে যাঁদের রাখা হয়েছে, তাঁরা এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না।’
তদন্ত কমিটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উপাচার্য।
ওই তদন্ত কমিটিতে ঢাবির সহকারী প্রক্টর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে প্রধান করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফতাব আলী শেখ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান।
ডাকসু নির্বাচন না দিয়ে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের প্রতিবাদে গত শনিবার বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মামুন তুষার