জাবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে লোহার পেরেক
প্রতিকৃতির কাঁধ থেকে মাথা পর্যন্ত সারি সারি লোহার পেরেক। একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয়, অনেকগুলো তীর এসে বিদ্ধ করেছে ছবিটিকে। আর যাঁর ছবি এভাবে পেরেক বিদ্ধ হয়ে আছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সেই প্রতিকৃতিটির অবস্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাস্কর্যটিরই এই বেহাল দশা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অবস্থিত এই প্রতিকৃতিতেই শোক দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিকৃতিটির প্রতি এমন অবহেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার বুদ্ধ ও হাফিজ উদ্দিনের নকশায় নির্মিত এই প্রতিকৃতিটির উন্মোচন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির। এর আগে ২০০০ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ফলকের ঠিক নিচেই বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা, বাংলাদেশের মানুষ যেন তাদের খাদ্য পায়, আশ্রয় পায় এবং উন্নত জীবনের অধিকারী হয়—বঙ্গবন্ধু।’
এ বিষয়ে কথা হয় বঙ্গবন্ধু হলের নিরাপত্তা প্রহরী জহির আহমেদের সঙ্গে। তিনি এনটিভিকে জানান, প্রায় এক বছরের বেশি সময় আগে হল অফিসের নির্দেশে কোনো এক অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোকসজ্জার জন্য এভাবে পেরেক লাগানো হয়। এরপর আলোকসজ্জা খুলে নেওয়া হলেও পেরেকগুলো রয়ে গেছে। প্রতিদিনই বাইরে থেকে ঘুরতে আসা লোকেরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির এই অবস্থা দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে, হাসি-ঠাট্টা করে। এতে করে লজ্জায় পড়তে হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, বছরখানেক আগে আলোকসজ্জার কারণে ওখানে পেরেক গাঁথা হয়েছিল। ওই পেরেকগুলো উঠিয়ে ফেললে প্রতিকৃতিটির বর্তমান অবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় আর পেরেকগুলো তোলা হয়নি।
তবে অবিলম্বে এই প্রতিকৃতির সংস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যথাযথ সম্মানের ব্যবস্থা করবে বলে আশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র প্রতিকৃতির এই বেহাল দশার বিষয়ে কিছুই জানেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন। ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে এনটিভিকে জানান তিনি।

জাহিদুর রহমান