এখনো ফিরে যায়নি অতিথি পাখিরা
তীব্র শীতে সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে একটু উষ্ণতার জন্য বাংলাদেশে উড়ে আসে একদল পাখি। শীত শেষে এরা আবার চলে যায় নিজ ঠিকানায়। এসব পাখিকে বলা হয় অতিথি বা পরিযায়ী পাখি।
প্রতিবছর শীতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো ভরে ওঠে এসব পাখির কলতানে। গরম না পড়তেই অতিথি পাখি চলে যায় আপন নিবাসে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। শীত চলে গিয়ে বেশ গরম পড়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়নি অতিথি পাখিরা।
এখনো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেক। সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে মিলছে অতিথি পাখির দেখা। শীতকালের মতো এই বসন্তেও পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানান, গত ২০/২২ বছর শীত মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি এসে জড়ো হয়। এসব পাখির মধ্যে বিরল প্রজাতির বড় আকৃতির সাদা বক, বালি হাঁস, পানকৌড়িসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি রয়েছে। তীব্র শীতে কাবু এ পাখিগুলো সুদূর সাইবেরিয়া থেকে একটু উষ্ণতা নিতে কয়েক হাজার মাইল দূর থেকে এখানে ছুটে আসে। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ পাখি ফিরে গেলেও অতিথি পাখি ও বিরল প্রজাতির কিছু বক পাখি এখানেই বসতি গড়ে তুলেছে। ফলে অতিথি পাখি হয়েও এরা এখন এখানকারই বাসিন্দা।
সাধারণত শীতকালে অতিথি পাখিগুলো দেখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় জমান পাখিপ্রেমীরা। এবার সেই পাখিদর্শনের পালা এখনো চলছে। পাখির ওড়াউড়ি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

জাহিদুর রহমান