হল প্রশাসন থেকে জাবি শিক্ষকদের পদত্যাগ, অর্ধমাসেও হয়নি সমাধান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কামাল উদ্দিন হল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত নয়জন শিক্ষক পদত্যাগ করার পর অর্ধমাস পেরিয়ে গেলেও ব্যাপারটির সমাধান হয়নি। নয়জনের প্রশাসন চালাতে হচ্ছে একজনকে। এতে ভালোভাবে চলছে না হল প্রশাসনের কার্যক্রম।
গত ২২ মার্চ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এই নয় শিক্ষক পদত্যাগ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের পদত্যাগ মঞ্জুর না করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি ২৬ মার্চ থেকে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আবুল হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়নি কেন সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন না থাকলে গ্রহণ করার দরকারটা কি? আমরা যদি টিচারদের মানাইতে পারি যে পদত্যাগ করো না তাহলে গ্রহণ করব কী জন্য?’
এদিকে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ গ্রহণ করা না হলে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে ফের আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন হলটির বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী। আন্দোলনের মুখে সব শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিলেও আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগই চেয়েছিলেন।
গত ২১ মার্চ হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন হলটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ মার্চ প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপি দেওয়ার পরপরই হল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত নয়জন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
স্মারকলিপিতে হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বাবুর্চি নিয়োগ দিয়ে প্রাধ্যক্ষের বাসার কাজে লাগানো, ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিম্নমানের হওয়া, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে তদারকি না করা, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহ না করা, মাঠ সংস্কার না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে পদত্যাগপত্রে শিক্ষকরা ক্ষমতাসীন ছাত্রদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেন।

জাবি সংবাদদাতা