‘হত্যা করা হচ্ছে না বলেই আমরা বেঁচে আছি’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে টানা ১২ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন রাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে ক্যাম্পাস বন্ধেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইংরেজি বিভাগ।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাবির ইংরেজি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের সভাপতি ড. এ এফ এম মাসউদ আখতার বলেন, ‘এ মাসের ৭ তারিখ থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে সকাল ১০টা থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, প্রতিবাদ র্যালি করে।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন রাজশাহী এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এ মানববন্ধনে রাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘রাবির চার শিক্ষককে এ পর্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি হত্যারও কোনো ফল দেখতে পাইনি। এদিকে দেশেও প্রতিদিন একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড হতে চলেছে। আমাদের জীবনের এখন কোনো নিরাপত্তা নেই। কখন যে আমাদের হত্যা করা হবে তারও ঠিক নেই। আমরা বেঁচে আছি আমাদের কারণে নয়, আমাদের হত্যা করা হচ্ছে না বলে আমরা বেঁচে আছি।’
এ সময় রাবির সাবেক উপ-উপাচার্য নুরুল্লাহ বলেন, ‘গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি শিক্ষক, ব্লগার, মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারীসহ সাধারণ মানুষদের যারা হত্যা করছে তাদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে। এই তরুণদের কয়েক বছর মোটিভেট করে এসব কাজে লিপ্ত করা হচ্ছে। এই তরুণরা কেন এ কাজে লিপ্ত? আজকে যে হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে, তা আমাদের ভ্রান্ত রাজনীতির ফল। এর জবাব আমাদের রাজনীতিবিদদের দিতে হবে।’
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন রাজশাহীর পর বেলা ১১টায় রাবি শিক্ষক সমিতি মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এভাবে মানুষ হত্যা করে দেশের উন্নয়ন করে লাভ কী। অর্থনীতির জন্য মানুষ, নাকি মানুষের জন্য অর্থনীতি!’
গত ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাবি শিক্ষক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে বাসা থেকে ১০০ গজ দূরে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

রাবি সংবাদদাতা