ঢাবিতে পাঁচ পাহাড়ি ছাত্রকে পিসিপির মারধর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পাঁচ পাহাড়ি ছাত্রকে মারধর করেছেন পাহাড়ি ছাত্রপরিষদের (পিসিপি) নেতাকর্মীরা। নিজেদের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করা এবং পিসিপি নেতাকর্মীদের কথামতো না চলার কারণেই তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মারধরের শিকার ছাত্ররা হলেন অংছিং মারমা, উসাচিং মারমা, বাচনু মারমা, উমংসিং মারমা এবং রোনাল চাকমা। তাঁরা সবাই জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি এবং হলে পাহাড়ি ছাত্রদের নিরাপত্তা চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর দুটি আবেদনপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
মারধরের শিকার ছাত্ররা জানান, গত বছর পিসিপির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হয়। এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন কাজে বাধ্য করে। গত ৫ মে হলে পাহাড়ি ছাত্রদের নবীন বরণের ঘটনার জের ধরে প্রথমে চারজন এবং পরে একজনকে মারধর করা হয়।
তাঁরা জানান, প্রতিবছর পাহাড়ি ছাত্রদের নবীন বরণ হতো ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী’ ব্যানারে। যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিকভাবে হতো। কিন্তু এ বছর তারা শুধু ‘পিসিপি’ ব্যানারে নবীন বরণ করে। পিসিপি চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির স্টুডেন্টস উইং (সম্পূর্ণ রাজনৈতিক) হওয়ায় অন্য পাহাড়ি ছাত্ররা তা মেনে নিতে চায়নি। এ জন্য অং ছিং মারমা পাহাড়ি ছাত্রদের একটি ফেসবুক গ্রুপে এ বিষয়ের সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এর পরই গত মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে হলের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুমন মারমাসহ ১০জন পিসিপি নেতাকর্মী অং ছিংসহ চারজন পাহাড়ি ছাত্রকে মারধর করেন।
একই ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে রোনাল চাকমা নামে আরেকজন পাহাড়ি ছাত্রকে মারধর করা হয়। রোনাল চাকমা ছাত্রলীগ করার অপরাধেই মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের মারধর করার পর হল থেকে চলে যেতে বলা হয় এবং অন্যথায় আরো খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয় পিসিপি নেতাকর্মীরা। ঘটনার বিচার দাবি করে অং ছিং ও রোনাল চাকমা পৃথকভাবে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর দুটি আবেদন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাহাড়ি এক ছাত্র জানান, ‘পিসিপির নেতাকর্মীরা সমগ্র পাহাড়ি ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে হল প্রভোস্ট থেকে সিট বরাদ্দ নেয়। কিন্তু তাদের দলীয় কার্যক্রম না করলে বিভিন্নভাবে তাঁরা আমাদের এভাবে মারধর করেন। আমরা এ সংগঠনের অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।’
পিসিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী সুমন মারমা বলেন, ‘এগুলো আমাদের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সামাজিকভাবে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই হয়েছে তবে মারধর হয়নি। তারা সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দিচ্ছে। আমাদের মধ্যে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে ঐক্য নষ্ট করতে চায়।’
এ বিষয়ে সভাপতি নিপুন ত্রিপুরা বলেন, ‘সংগঠন জোর করে কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হয় না। অং ছিং মারমাদের একটি ফেসবুক পেজে নবীন বরণ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। তার অনেক সমস্যা আছে। সে গত বছর এক সিনিয়র ভাইকে মারধর করে। তবে তাকে আমরা মারধর করিনি।’
হল প্রাধ্যক্ষ ড. অসীম সরকার বলেন, ‘আমি বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখছি। তাদের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ থাকায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা