রাবির হলে সকেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ভোগান্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মন্নুজান হলের ৩ নম্বর গণরুমের সব সকেটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে হল কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার দুপুরে এ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ধীরে ধীরে অন্য গণরুমগুলোর সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় রান্নাবান্না, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জ এবং কম্পিউটার চালাতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই কক্ষের শিক্ষার্থীরা।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে গত ৩০ এপ্রিল হল প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, গণরুমের ভেতরে রাইসকুকার, কারিকুকার, ওয়াটার হিটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় নানা সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণরুমগুলোর সকেট লাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনগুলো চার্জ দেওয়ার জন্য পড়ার কক্ষে অতিরিক্ত প্লাগের ব্যবস্থা করা হবে।
ছুটির পর সকেটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এই গণরুমের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা তো শুধু ফোন ব্যবহার করি না, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করি। তো, সেগুলো চার্জ কোথায় করব? আর পড়ার কক্ষে ফোন চার্জ করলে তার তো কোনো নিরাপত্তা নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্নুজান হলের আবাসিক ও আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটি শেষে আমাদের হল খুললেও এখনো হলের ডাইনিং খোলা হয়নি। এখন আমরা খাব কোথায়? সকেটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আমরা রান্নাও করতে পারছি। বাড়ি থেকে এসে বেশ বিপাকে পড়েছি।’
এই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘ছাত্রীদের অন্য হলগুলোতে রান্না করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমাদের তো সেই ব্যবস্থাও নেই।’
হল সূত্রে জানা যায়, হলের এই কক্ষে বেড আছে ২৪টি, শিক্ষার্থী ৪৮ জন এবং ফ্যান রয়েছে আটটি। তবে এই গরমের মধ্যে বেড ও ফ্যান যথেষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, কক্ষে পড়াশোনা করার জন্য কোনো টেবিল রাখারও জায়গা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিসংখ্যান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এমন বেহাল অবস্থায় হলে আসলে থাকা যায় না। শুধু পড়াশোনা জন্য হলে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’
মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. তানজিমা জোহরা হাবিব বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। কারণ, ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা রুমে রান্না করার কারণে ডাইনিং চালু রাখতেও সমস্যা হচ্ছে।
ধীরে ধীরে সব গণরুমেই সকেটের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলেও জানান হল প্রাধ্যক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাবি সংবাদদাতা