‘আসল খুনিদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যার আসল খুনিদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। হত্যার দুই বছর পূর্তিতে এমন অভিযোগ করেছেন লিলনের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন।
সৌমিন শাহরিদ জেভিন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন বাবার হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সেটা নিয়েই আমি সন্তুষ্ট না। অভিযোগপত্রে কোনো কিছু কি যৌক্তিক এবং কোনো কিছু কি স্পষ্ট? এ রকম একটা হত্যাকাণ্ড, সেখানে যে বিষয়গুলো তোলা, কিন্তু তার উদ্দেশ্য কোনো কিছুই পরিষ্কার না। এই এই কারণে, এই এভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, এ রকম কিছুই নাই। জাস্ট একটা জবানবন্দি, তাতেও কিছু নাই এবং সেটা দিয়ে আদৌ কিছু প্রমাণিত হয় না। সেখানে সবকিছুই প্রচণ্ড অপরিষ্কার।’
জেভিন বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগপত্রটি কাঠামোগতভাবেই সমৃদ্ধ না, সুতরাং এই ধারণাটাই পোষণ করব এই ঘটনার সঙ্গে কোনো একটা পক্ষের সম্পৃক্ততা আছে। যাদের প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে রেজাউল স্যারের হত্যাকাণ্ড। ওই ধারাবাহিকতার ফল এটা। এভাবে আসল খুনিদের এড়িয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা চলছে। হতে পারে সরকারি ভাবমূর্তি ইত্যাদি, ইত্যাদি রক্ষার জন্য।’
‘এই মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী যাদের ধরা হয়েছিল, তারা এখন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ অভিযোগপত্রের তো একটা শক্তি থাকতে হবে, এটার তো সেটা নাই,’ বলেন জেভিন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক বলেন, ‘কারো অভিযোগপত্র পছন্দ নাই হতে পারে। আবার একমতও না হতে পারে। যদি কারো অভিযোগপত্র নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে সে কোর্টে গিয়ে বলতে পারে।’
২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করে অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলনকে আহত করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক।

রাবি সংবাদদাতা