সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নেতিবাচক প্রভাব বহির্বিশ্বেও পড়ছে
দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার নেতিবাচক প্রভাব বহির্বিশ্বেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ। এর নেতিবাচক প্রভাব বহির্বিশ্বেও পড়ছে।’
আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জঙ্গিবিরোধী এক সেমিনারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গওহর রিজভী এই মন্তব্য করেন।
ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ : সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আবদুল মোমেন, তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. খুরশিদা বেগম সাঈদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি রাজেশ সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক, উদার গণতান্ত্রিক দেশ। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গভীরে গিয়ে এর সূত্র নির্ণয় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অচিরেই দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তিনি এ সময় আশাবাদ প্রকাশ করেন।
উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দক্ষিণ এশিয়াকে শান্তির অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই প্রচেষ্টাকে স্তব্ধ করতে জঙ্গিগোষ্ঠী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বাংলাদেশের কাছ থেকে সম্প্রতি পাকিস্তানের ক্ষতিপূরণ চাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে উপাচার্য প্রশ্ন রাখেন ১৯৭১ সালের ৩০ লাখ শহীদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আমাদের বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের ব্যাংক-বিমা লুট করে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাসহ সরকারি দপ্তরের টাকাও লুট করে। এসব টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যথায় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার যৌক্তিকতা নেই।’
উদ্বোধনী পর্বের পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রবন্ধের ওপর আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাবি সংবাদদাতা