রোহিঙ্গাদের আশ্রয় আর সূচির নোবেল প্রত্যাহারের দাবি
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এ দেশে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিয়ানমার সরকারের ওপর এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি এবং অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও তোলে।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি তোলে শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী পিয়াস বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাদের যথাযথ আইনকানুন মেনে অন্তত মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ দেশে আশ্রয়ের অনুমতি দেওয়া হোক।
‘স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত কোটি বাঙালিকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছিল। ওই সময় ভারত আমাদের আশ্রয় না দিলে পরিণতি কী হতো তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। ভারত ওই সময় যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিল, এখন আমাদের উচিত, অন্তত সেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া’, যোগ করেন পিয়াস।
বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের আরেক শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। নারীদের ধর্ষণ, পরে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ, ন্যাটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এ ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারছে না। তাদের উচিত, মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা।
ইমরান আরো বলেন, অং সান সু চিকে কিসের ভিত্তিতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে? তাঁর নোবেল ফিরিয়ে নেওয়া হোক। কারণ যে সু চি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে রোহিঙ্গাদের এভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তিনি নোবেলের যোগ্য নন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইমরান বলেন, রোহিঙ্গাদের যেন এ দেশে আশ্রয় দেওয়া হয়।
রাবির আরেক শিক্ষার্থী সাজ্জাত বলেন, এটা ধর্মের কথা নয়। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্বমানবতা আজ নীরব। অত্যাচারীরা আজ সংঘবদ্ধ কিন্তু আমরা সংঘবদ্ধ নই। তাই এই সংকট এড়াতে আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন তায়েব, মাসুদ, নাইম রেজা, মাহফুজুর রহমান প্রমুখ শিক্ষার্থী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

রাবি সংবাদদাতা