নীল দলের দুই প্যানেল, সাদা দলের দুই প্রার্থী!
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে লড়ছে। প্রার্থিতা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বিভক্ত হয়েছে নীল দল। এদিকে বিএনপি সমর্থিত সাদা দল কেবল দুটি পদে লড়ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন। আগামীকাল মঙ্গলবার ও বুধবার যথাক্রমে ঈদে মিলাদুন্নবী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এ কারণে আজ সোমবারই ছিল নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন।
শেষ মুহূর্তের প্রচারে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কার্যালয়সহ পুরো ক্যাম্পাস। নিজের পক্ষে ভোট টানতে নানা ধরনের নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে সময় ব্যয় করছেন প্রার্থীরা। অনুষদ ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনে ছোট বড় জটলায় নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ পূর্ণ হবে। এ কারণে শিক্ষক সমিতির এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষক সমিতির কার্যকনির্বাহী পরিষদ ২০১৭-এর পরিষদ হবে পঞ্চম কার্যনির্বাহী পরিষদ।
এদিকে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে সাদা দলের ব্যানারে সাধারণ সম্পাদকের মনোনয়ন জমা দিয়ে শেষমেশ পারিবারিক কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এক প্রার্থী।
নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত নীল দল
এ দিকে প্রার্থিতা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে নীল দলের নামে দুটি প্যানেল করে নির্বাচনে নেমেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত শিক্ষকরা। উভয় পক্ষই বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে নিজেদের নীল দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৩ জন সদস্যদের মধ্যে ৭ জন সদস্যসহ অন্যদের নিয়ে প্যানেল ঘোষণা করেছে এক পক্ষ। এ প্যানেলে সভাপতি পদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মাদ কামাল উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। অন্য দিকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নীল দল নামে আলাদা প্যানেল গঠন করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে সভাপতি পদে লড়ছেন বিজ্ঞান অনুষদের ড. মে. আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক পদে মার্কেটিং বিভাগের মেহেদী হাসান।
নীল দলের ড. তাহের ও মেহেদী প্যানেলের অন্যরা হলেন, সহসভাপতি পদে এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী (নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ) ও মো. শামিমুল ইসলাম (অর্থনীতি বিভাগ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী ওমর সিদ্দিকী (ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ), কোষাধ্যক্ষ পদে তারিক হোসেন (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ), সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. মোকাদ্দেস-উল- ইসলাম (বাংলা বিভাগ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. আসাদুজ্জামান (নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ) এবং ৭ কার্যকরী সদস্য পদে ড. জি এম মনিরুজ্জামান (বাংলা বিভাগ), মো. আইনুল হক (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), মো. জিয়া উদ্দিন (লোক প্রশাসন বিভাগ), মো. মঈনুল হাছান (মার্কেটিং বিভাগ), হুমায়ুন কাইসার (পরিসংখ্যান বিভাগ), মো. শাহেদুর রহমান (ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ) ও শারমিন সুলতানা (ইংরেজি বিভাগ)।
নীল দলের ড. বিশ্বজিৎ ও ড. কামাল প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন সহসভাপতি পদে দুলাল চক্রবর্তী (আইসিটি বিভাগ) ও মো. খলিলুর রহমান (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শুভ ব্রত সাহা (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ), কোষাধক্ষ্য পদে মো. হাসান হাফিজুর রহমান (সিএসই বিভাগ), সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে সুমাইয়া আফরীন সানি (বাংলা বিভাগ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. সিদ্দিকুর রহমান (ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ) এবং সাত কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দুলাল চন্দ্র নন্দী (পরিসংখ্যান বিভাগ), মিহির লাল ভৌমিক (রসায়ন বিভাগ), প্রদীপ দেবনাথ, (ফার্মেসি বিভাগ), মো. কাউছার আহমেদ পাটওয়ারী (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), রোকসানা আকতার (আইন বিভাগ), লামিনা বিনতে জাহান (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ) ও মো. বেলাল হুসাইন (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ)।
নীল দলের প্যানেল ঘোষণা নিয়ে চলছে বাকযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু পরিষদের নীল দলের প্যানেল নিয়ে পদ বন্টনে কোন সমঝোতা না হওয়ায় আলাদা প্যানেল (নীল দল নামে) ঘোষণা করে দুটি পক্ষ। বঙ্গবন্ধু পরিষদের বর্তমান কমিটি দাবি করে, নীল দলের অন্য কোনো প্যানেল নেই। যাঁরা আলাদা প্যানেল দিয়েছেন তাঁরা পরিষদের প্রার্থী নন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত। এখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভার কোরামে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা প্যানেল করেছেন। পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ব্যতিত তাঁরা নীল দলের প্যানেল ঘোষণা করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম দিয়ে নীল দলের কথিত যে প্যানেল তাঁরা ঘোষণা করেছেন তা আইন বহির্ভূত।
অন্য দিকে ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের মধ্যে কোনো বিভাজন হয়নি। সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচনের জন্য আলাদা প্যানেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য তারা এ প্যানেল ঘোষণা করেছেন। এখানে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি।
কেবল দুই পদে সাদা দলের প্রার্থী
সাদা দলের ব্যানারে সাধারণ সম্পাদক পথে মনোনয়ন জমা দিয়ে নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন গণিত বিভাগের সভাপতি মো. আবদুল হাকিম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিন বিষয়টি জানিয়েছেন।
সভাপতি পদে আনোয়ার হোসেন (গণিত বিভাগ) এবং কার্যকরী সদস্য পদে মাসুদা কামাল (লোক প্রশাসন বিভাগ) সাদা দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন।

কুবি সংবাদদাতা