ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে চাইলে ইংরেজিতে পারদর্শী হোন
চাকরির বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক প্রতিযোগিতামূলক। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, করপোরেট দুনিয়া, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা ফ্রিল্যান্সিং—সবখানেই এক জিনিস সাধারণ: ইংরেজি জানতেই হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়, টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্যও ইংরেজি দক্ষতা এখন জরুরি।
আমাদের অনেকেই ইংরেজিকে কেবল একটা বিষয় হিসেবে দেখি—পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করি, চাকরির ইন্টারভিউর আগে হঠাৎ একটু প্র্যাকটিস করি। কিন্তু ইংরেজি শেখা আসলে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের চর্চায়ই এটি সহজ হয়ে যায়, আর সেই দক্ষতাই ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে দেয়। ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইংলিশ থেরাপি এর প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম এই প্রক্রিয়া নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান।
কেন ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ
প্রথমত, সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাস। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারলে নিজের ব্যক্তিত্ব আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা যায়।
দ্বিতীয়ত, উচ্চশিক্ষা। বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইলে IELTS বা TOEFL-এর মতো পরীক্ষায় ভালো স্কোর প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কাজ। আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের ভাষা মূলত ইংরেজিই। ফলে ইংরেজি জানলে নিজের কাজের সুযোগ কেবল দেশে নয়, বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়।
এ ছাড়াও গবেষণা, প্রযুক্তি, ব্যবসা বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ইংরেজি এখন অপরিহার্য হাতিয়ার।
ইংরেজি শেখার চার ধাপ
ইংরেজি শেখার মূল চারটি অংশ হলো—শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। এগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলেই ধীরে ধীরে সাবলীলতা আসে।
১. শোনা: প্রতিদিন ইংরেজি সংবাদ, গান, পডকাস্ট বা সিনেমা শুনুন। শব্দ বুঝতে না পারলেও হাল ছাড়বেন না। কিছুদিন পর নিজের কানই বুঝে যাবে কোথায় জোর, কোথায় বিরতি।
২. বলা: অনেকেই ভুল করার ভয়ে কথা বলা শুরু করেন না। কিন্তু কথা না বললে ভুলও ধরা পড়বে না। আয়নার সামনে অনুশীলন করুন, বন্ধুর সঙ্গে ছোটখাটো আলোচনা করুন, কিংবা অনলাইনে ইংরেজি স্পিকিং গ্রুপে যোগ দিন।
৩. পড়া: ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ব্লগ বা পত্রিকা পড়া শুরু করুন। অচেনা শব্দগুলো নোট করে রাখুন। প্রতিদিন একটু একটু পড়লে শব্দভান্ডার ও বোঝার ক্ষমতা দুটোই বাড়বে।
৪. লেখা: নিজের দিনলিপি ইংরেজিতে লিখুন। প্রতিদিন সামান্য করেও লিখুন। ভুল হলে সমস্যা নেই—বারবার লিখলেই ব্যাকরণ ও বাক্যগঠন দুটোই উন্নত হবে।
ধৈর্যই সাফল্যের চাবিকাঠি
ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া একদিনে সম্ভব নয়। এটি একটি ধীর কিন্তু ফলপ্রসূ প্রক্রিয়া। প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় দিলেই কয়েক মাসে পরিবর্তন টের পাবেন। একটি সহজ কৌশল হলো—১৫ মিনিট শুনুন, ১৫ মিনিট বলুন, ১৫ মিনিট পড়ুন, আর ১৫ মিনিট লিখুন। ছোট এই অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় দক্ষতায় পরিণত হবে।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
বাংলাদেশের তরুণেরা এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও ক্যারিয়ার গড়ছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, কনফারেন্স, উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির সুযোগ—সবখানেই ইংরেজি অপরিহার্য। তাই দেরি না করে আজ থেকেই অনুশীলন শুরু করুন।
নিয়মিত চর্চা করলে ইংরেজি আপনার চিন্তা ও আত্মবিশ্বাসের অংশ হয়ে যাবে। তখন সাক্ষাৎকার, ক্লাস প্রেজেন্টেশন বা অফিস রিপোর্ট—যেখানেই যান না কেন, সহজেই নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে পারবেন।
চাকরির প্রতিযোগিতায় যারা একাধিক দক্ষতা অর্জন করছে, তারাই এগিয়ে যাচ্ছে। আর ইংরেজি সেই দক্ষতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শোনা, বলা, পড়া ও লেখা—এই চারটি অভ্যাসে ধারাবাহিকতা রাখুন। একদিন দেখবেন, ইংরেজিতে কথা বলা বা লেখার সময় আর কোনো ভয় কাজ করছে না। বরং এই ভাষাই আপনাকে নিয়ে যাবে নতুন সুযোগ, উন্নত ক্যারিয়ার আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।
লেখা: মো. আশিকুর রহমান, ফিচার কন্ট্রিবিউটর।

ফিচার ডেস্ক