প্রক্সিকাণ্ডে জড়িত রাবির তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিউজের সত্যতা পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তিনজনের ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট নিউজ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে চার জনকে ভর্তি করিয়েছেন একই প্রক্সিদাতা। তাদের মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন। তবে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও তিনি ভর্তি হননি।
এরপর নিউজের সত্যতা প্রমাণে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করা হয়। সদস্য করা হয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান ও সাবেক আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে আছেন উপ-রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন।
তৎকালীন ভর্তি উপকমিটি ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম আল মামুন বর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২.৬০ স্কোর করে ৪৬তম মেধাস্থান অর্জন করে ভর্তি হন আইন বিভাগে। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০২১৬১২৬ এবং রোল নাম্বার ৫৪১৩৭। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
একই পন্থা অবলম্বন করে ‘সি’ ইউনিটে ৭৯ দশমিক ৭০ নম্বর পেয়ে ভর্তি হন মো. শোভন। বর্তমানে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৯২৯১১২ এবং রোল নাম্বার ৭১১০৬। তিনি রাজশাহীর মতিহার থানার বুধপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাবি শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ভাতিজা।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেহেদী হাসান সনি প্রক্সির মাধ্যমে ৭২ দশমিক ৬৫ নম্বর পেয়ে ১৬তম মেধাস্থান অর্জন করেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৩৩৩১৭০ এবং পরীক্ষার রোল নাম্বার ৯৬১১৫। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় গতকালের সিন্ডিকেটে তিনজন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।’

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়