জকসু নির্বাচনে হেরে যা বললেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। অপর দিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল চারটি পদে জয় পেয়েছে।
পরাজয়ের পর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকউন্টের এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ কে এম রাকিব বলেন, প্রার্থী হিসেবে আমি হেরে গেলেও, জগন্নাথের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে।
এ সময় জকসুতে নির্বাচিত সকল প্রার্থীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাকিব।
পোস্টের শেষে এই ভিপি প্রার্থী লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমার লক্ষ্যই ছিলো শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাবেন এটাই প্রত্যাশা থাকবে।
এর আগে গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১টায় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
জকসুতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। রাকিব বিশ্ববিদ্যায় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এই পদে ছাত্রদল সমর্থিত আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট।
এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী (৫ হাজার ৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল (৫ হাজার ৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখীমন খাতুন (৪ হাজার ৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ (৪ হাজার ৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক (৪ হাজার ৬৫৪ ভোট), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার (৪ হাজার ৪০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম (৩ হাজার ৯৬৩ ভোট) এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩ হাজার ৪৮৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের ফাতেমা আক্তার অওরিন (৩ হাজার ৮৫১)। অন্যরা হলেন– আকিব হাসান (৩ হাজার ৫৮৮ ভোট), শান্তা আক্তার (৩ হাজার ৫৫৪ ভোট), মেহেদী হাসান (৩ হাজার ৩৪৮ ভোট) ও আবদুল্লাহ আল ফারুক (২ হাজার ৯১৭ ভোট)।
এ ছাড়া ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সদস্যপদে জয়ী হয়েছেন সাদমান আমিন (৩ হাজার ৩০৭ ভোট)। সদস্যপদে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতা করে জয়ী হয়েছেন জাহিদ হাসান (৩ হাজার ১২৪ ভোট)।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। যন্ত্রে যাচাই শেষে ভোট গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক