নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিলসহ ৩ দফা দাবিতে ডুয়েটে অচলাবস্থা
নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিলসহ ৩ দফা দাবিতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ব্লকেট কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনকারীরা ডুয়েটের ফটক বন্ধ করে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এতে ডুয়েটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ব্লকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে নতুন ভিসি ড. মুহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মনে করছে তারা।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ এবং গতকালের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যারা জড়িত তাদের সবার বিচার করা।
আজ সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ডুয়েট ক্যাম্পাসে খণ্ড খণ্ড মিছিল এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ তারা নিয়ন্ত্রণ করছেন। আন্দোলনের অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ছাড়া শুধু শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি
দিচ্ছেন তারা। সব ক্লাস ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচল অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডুয়েটে চলমান নতুন ভিসি নিয়োগবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নতুন ভিসি নিয়োগ বাতিল না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে তারা ঘোষণা দেন।
এদিকে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ খসরু মিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, আমাদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগ করা হোক। এখন যেহেতু সরকারিভাবে ভিসি নিয়োগ হয়েছে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি জানান, ছাত্রদের আন্দোলনও যৌক্তিক। গতকাল রোববার দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ ছাত্র আহত হয়েছেন, যেটা আমাদের কাম্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেছনে কিছু শিক্ষকদের উসকানি আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘না। এই অচল অবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর পরই তা প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ। রোববার ড. মো. ইকবাল ডুয়েট ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন—এমন সংবাদে আন্দোলনরত ছাত্ররা ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নতুন ভিসি সমর্থিত ছাত্ররা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ভিসি ড. মো. ইকবাল ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করে পাশেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর