জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাবিতে গণভোজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ১৮ আবাসিক হলে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে গণভোজ ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রভোস্ট কাউন্সিলের সহযোগিতায় এই বিশেষ গণভোজের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরা, শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা মোট ১৩ হাজার ৮৩০ শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলে ৪৪০ জন, শাহ্ মখদুম হলে ৬৬০ জন, নবাব আব্দুল লতিফ হলে ৬২০ জন, সৈয়দ আমীর আলী হলে ৫৫৩ জন, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ৭২০ জন, শহীদ হবিবুর রহমান হলে এক হাজার ২৬২ জন, মতিহার হলে ৮০০ জন, মাদার বখশ হলে ৯৫০ জন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৮৫০ জন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৯৯২ জন, বিজয় ২৪ হলে ৮০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এ ছাড়া, মন্নুজান হলে এক হাজার ১২ জন, রোকেয়া হলে ৯২৮ জন, তাপসী রাবেয়া হলে ৫৭০ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৬৬০ জন, রহমতুন্নেসা হলে ৭৩৬ জন, জুলাই ৩৬ হলে এক হাজার ২৪০ জন এবং শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম ডরমিটরিতে ৩৭ শিক্ষার্থী এই গণভোজে অংশ নেয়। বিশেষ এই গণভোজে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারে পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, ডাল মিষ্টি ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হয়।
মতিহার হলের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাজু বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে হল থেকে আজকে যে খাবার বিতরণ করা হলো তার মান খুবই ভালো ছিল। এমন আয়োজন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। সুন্দর রান্নার জন্য রাধুনিকেও ধন্যবাদ জানাই।
জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. এস এম কামরুজ্জামান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা। এটাতো একটা আনন্দের দিন এবং সবাই এটাকে উৎযাপন করছে সেজন্যই আমরা আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছি। ১৩ হাজার ৮৩০ শিক্ষার্থী টোকেন কিনেছিল এবং এর বাইরেও অনেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। আয়োজনে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি।
জুলাইয়ে তাৎপর্য নিয়ে ড. এস এম কামরুজ্জামান বলেন, জুলাই মানে আমাদের শক্তি, সাহস এবং আমাদের পথচলা। জুলাই গত ১৭ বছরের বঞ্চনা থেকে একটা মুক্তির দিন। জুলাই সাধারণ মানুষের ওপর বিভিন্ন অন্যায় নির্যাতনের জবাব।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে থেকে শোভাযাত্রা, সাড়ে ১০টায় আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন উপাচার্য, এর অল্প সময় পর সিনেট ভবন চত্বরে উপাচার্য ও উপউপাচার্যদ্বয় বৃক্ষরোপণ করেন, বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারুণ্যের প্রত্যয়; গণতন্ত্রের অঙ্গীকার ও নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এরপর বাদ আসর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিনব্যপী আয়োজনে সমাপ্ত হয়।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়