শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে আবারো বদলি
জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে বিতর্কিত কর্মকর্তা মাকসুদা ইয়াসমিনকে ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের আদেশ বাতিল করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। তার স্থানে কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর রঞ্জনা থিগিদিকে নতুন ইনচার্জের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং মাকসুদা ইয়াসমিনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টানা ১৪ দিনের কমপ্লিট শাটডাউন ও আমরণ অনশনের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বদলির এই নতুন আদেশ প্রকাশ পায়। আদেশ জারির খবর পেয়ে দুপুরে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শেরপুর নার্সিং কলেজের ইনচার্জ থাকাকালে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মাকসুদা ইয়াসমিনের পদত্যাগের দাবিতে টানা এক মাস আন্দোলন করেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর গত ১২ অক্টোবর তাকে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইনচার্জ হিসেবে বদলি করে অধিদপ্তর। তবে এ বদলির আদেশ জারির পরপরই জামালপুরের শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে যোগদানে বাধা দিয়ে আন্দোলনের ডাক দেন।
মাকসুদা ইয়াসমিন জামালপুরে যোগদান করতে এলে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং যোগদান করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে টানা ১৪ দিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন। তবুও বদলির আদেশ বাতিল না হওয়ায় আন্দোলন বেগবান করতে রোববার রাত থেকে তিন শিক্ষার্থী—ইফাজ মাহি, মোকছেদুল ইসলাম ও ফরহাদ তামিম আমরণ অনশনে বসেন। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত অধিদপ্তর তাদের দাবি মেনে নিয়ে নতুন আদেশ জারি করতে বাধ্য হয়।
আন্দোলন সফল হওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে অনশনকারী শিক্ষার্থী মোকছেদুল ইসলাম বলেন, “মাকসুদা ইয়াসমিন একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও অনিয়মকারী কর্মকর্তা। শেরপুরে আন্দোলন করে পদত্যাগ করানোর পর তাকে আমাদের কলেজে পাঠানো হয়েছিল। আমরা কোনোভাবেই একজন দুর্নীতিবাজকে মেনে নেব না বলেই আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের এই লড়াই সফল হয়েছে, আজ থেকে আমরা সবাই আবার ক্লাসে ফিরে যাচ্ছি।”
অন্যদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়া ইনচার্জ রঞ্জনা থিগিদি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যতদিন এই পদে থাকব, শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ ও প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সততার সঙ্গে কাজ করে যাব।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর