আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ হলেন বাংলাদেশের হিরা
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পুরুষদের হিফজ বিভাগে বিশ্বজয়ের শীর্ষ শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের উদীয়মান হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তিনি ঢাকার মিরপুরস্থিত বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর একজন কৃতী শিক্ষার্থী।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান আন্তর্জাতিক বিচারকদের ফলাফল ঘোষণা শেষে বিজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার হাতে শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি ও সম্মাননা তুলে দেন।
এর আগে ৬ অক্টোবর ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বিশ্বের শতাধিক দেশের অগণিত প্রতিযোগী থেকে কয়েক ধাপের কঠোর প্রাথমিক বাছাই শেষে মূল পর্বে তেলাওয়াত ও হিফজ উভয় বিভাগে ৩৮টি দেশের ২৫ জন করে মোট ৫০ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
প্রথম স্থান অর্জনের মহান স্বীকৃতিস্বরূপ হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে নগদ ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ১১ লাখ টাকা), সম্মাননা ট্রফি, পাঁচ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ বা পর্যটন প্যাকেজ এবং তিন হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি খাঁটি স্বর্ণের বার উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ের সুসংবাদ পাওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা তার শিক্ষক, পিতা-মাতা ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সবার নিকট আন্তরিক দোয়া চেয়েছেন।
এ বিষয়ে মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার এই ঐতিহাসিক জয় কেবল আমাদের মাদরাসার নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের সম্মান ও গৌরবের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে যোগ্য আলেম, মানবিক মানুষ এবং দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এদিকে মালয়েশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এবারের আসরে পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান, নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা এবং নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু শীর্ষ স্থান লাভ করেন। ১৯৬১ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রহমানের উদ্যোগে দেশটির আওকাফ ও ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা আজ বৈশ্বিক উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সা'দ নুরের মতো বিশ্বজয়ী হাফেজরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

জাহিদুর রহমান