পিএইচপি কুরআনের আলো-এনটিভি ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করে যাবে : মো. নুরুদ্দিন আহমেদ
এনটিভি পরিচালক মো. নুরুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পিএইচপি কুরআনের আলো-এনটিভি দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করে যাবে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪টায় সর্ববৃহৎ টেলিভিশনভিত্তিক জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, যা সরাসরি সম্প্রচার করছে এনটিভি। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘পিএইচপি কুরআনের আলো ২০২৬’ এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে এনটিভির পরিচালক মো. নুরুদ্দিন আহমেদ এই কথা বলেন।
মো. নুরুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি অনেকক্ষণ দেখছিলাম, ছোট শিশুরা যেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করছেন এবং বিচারকেরা যেখান থেকে ধরছেন তারপর থেকে তারা পড়া শুরু করছেন। তাদের এই মেধা চিন্তার ব্যাপার। সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা তাদের আরও ভালো করুক। আমি স্মরণ করছি মাওলানা ইউসুফ সাহেবকে। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে আমরা কাজ করেছি।
মো. নুরুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আমি শুধু এতটুকু বলব, কিছুক্ষণ আগে একটা স্ক্রিপ্ট দেখলাম ইউসুফ সাহেব বলছিলেন সরকার যদি স্বীকৃতি দিত এদেরকে তাহলে বাংলাদেশের অনেক শিশুরা এদিকে নজর দিত বা কুরআন আরও ভালোভাবে বুঝার বা শোনার চাহিদা থাকত।
এনটিভি পরিচালক বলেন, যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এরকম অনুষ্ঠান করা যায় যেখানে অনেক মাদ্রাসা, মসজিদ, অনেক হুজুর, শিক্ষক রয়েছেন আমার মনে হয় সরকার যদি নজর দেয় শিশুরা আরও ভালো রেজাল্ট করতে পারে। আমি কিছুদিন আগে দেখেছিলাম বিদেশ থেকে শিশুরা ভালো রেজাল্ট করে আসছে, এই পর্যন্ত যত শিশুরা বাংলাদেশের বাইরে গেছেন সবাই ভালো রেজাল্ট করে আসছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাদের আরও তৌফিক দান করুক।
এনটিভি ও নিজের পক্ষ থেকে থেকে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করবেন তাদেরকে আগাম অভিনন্দন জানান মো. নুরুদ্দিন আহমেদ।
যার হাত দিয়ে শুরু ‘পিএইচপি কুরআনের আলো’
১৮ বছরে আগে দেশের প্রথম রিয়েলিটি শো ‘পিএইচপি কুরআনের আলো’ শুরু করেন হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব, অকৃত্রিম কুরআন প্রেমিক, কুরআনের আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।
এনটিভি আয়োজিত পবিত্র কুরআন বিষয়ক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘পিএইচপি কুরআনের আলো : প্রতিভার সন্ধানে বাংলাদেশ’ এর বিচারক, পরিকল্পনাকারী ও পরিচালক ছিলেন ইসলামিক গবেষক হাফেজ মুহাম্মদ আবু ইউসুফ। ১৯৮০ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছিলেন বিএসটিআই জামে মসজিদের খতিব। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিবও ছিলেন এই গুণিজন। মৃত্যুর সময় স্ত্রী, দুই ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন মাওলানা মুহাম্মদ আবু ইউসুফ।

নিজস্ব প্রতিবেদক