হজের খুতবা অনুবাদ করবেন চার বাংলাদেশি
পবিত্র ঈদুল আজহা ও হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরব সরকার। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে বাংলাসহ ৫০টিরও বেশি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধীনে এই বিশেষ কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হতে যাচ্ছে।
এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ ও উপস্থাপনা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন চারজন বাংলাদেশি গবেষক। তারা হলেন- ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
পবিত্র মসজিদুল হারামের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের বাংলা বিভাগের পরিচালক ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবারসহ মোট পাঁচবার তিনি হজের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এই টিমের সকল সদস্যই অনুবাদে অংশ নেন। তবে মূল উপস্থাপনায় থাকেন দুজন। ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান এর আগে দুই বার হজের খুতবার অনুবাদ সরাসরি উপস্থাপনও করেছেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার শাসনগাছার বাসিন্দা ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান ১৯৯২ সালে ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় দেশসেরা (প্রথম স্থান) হন। পরবর্তীতে মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে দীর্ঘ এক দশক সৌদি ইন্টারন্যাশনাল রেডিওতে অনুবাদক ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। তিনি পবিত্র দুই মসজিদের জুমার খুতবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনার অনুবাদও করে থাকেন।
এক আবেগঘন বার্তায় ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বলেন, হজের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রম একটি অত্যন্ত সম্মানের কাজ। মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে আমরা চারজন বাংলাদেশি এই দায়িত্ব পালন করছি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি মনে করি, হজের খুতবা নিজ ভাষায় শুনতে পাওয়া অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের বিষয়।
আগামী ২৬ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখ লাখ হাজির উদ্দেশে মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা দেবেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের ভাষা ও অনুবাদ এজেন্সি এই সম্প্রচার কার্যক্রমের দেখভাল করছে।
সৌদি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৯ হিজরি (২০১৮ সাল) থেকে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ নির্দেশনায় আরাফার খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে মাত্র ৫টি ভাষায় খুতবা সম্প্রচার করা হলেও পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে ভাষার সংখ্যা বাড়ানো হয়।
২০২০ সালে (১০টি ভাষার মধ্যে) প্রথমবারের মতো হজের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পে যুক্ত হয় বাংলা ভাষা। ওই বছর প্রথমবার বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান। এরপর ২০২২ সালে ১৪টি, ২০২৩ সালে ২০টি এবং ২০২৪ সালে ২০টিরও বেশি ভাষায় আরাফার খুতবা অনুবাদ করা হয়। বর্তমানে এই অনুবাদ কার্যক্রম শুধু আরাফাতের খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রতি সপ্তাহের জুমা, দুই ঈদ, সালাতুল ইসতিসকা (বৃষ্টির নামাজ), চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের খুতবার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনাও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।
ইউটিউবের অফিসিয়াল চ্যানেল (আল-হারামাইন-সার্মনস) কিংবা ‘মানারাতাল হারামাইন’ ওয়েবসাইট থেকে ভাষা নির্বাচন করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী মুসলিমরা সরাসরি এই হজের খুতবা শুনতে পারবেন।

কামাল পারভেজ অভি, মক্কা