মালয়েশিয়া থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে
মালয়েশিয়া থেকে ৪০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতনের এক লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ ৯৫ হাজার ১৫০ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
অভিযুক্ত বাংলাদেশি মোহাম্মদ আব্দুল খালেকের (৪৩) বাড়ি বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ায়। অভিযোগকারী মো. আবুল কালামের (৩৩) বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বস্তল গ্রামে। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম ও আব্দুল খালেক একই প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। শ্রমিকদের বেতন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত লকারের চাবি তাদের দুজনের কাছে ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের জন্য এক লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ রিঙ্গিত তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। তা লকারে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে আবুল কালাম কাজের সাইট পরিদর্শনে যাওয়ার সুযোগে আব্দুল খালেক লকারে থাকা পুরো টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মালয়েশিয়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে গেছেন।
আবুল কালামের অভিযোগ, গত ২০ জুন তার ভাই আব্দুল খালেকের বগুড়ার বাড়িতে গিয়ে অর্থ ফেরত চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
আবুল কালাম জানান, এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের কারণে বর্তমানে ৪০ বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এতে তাদের আবাসন ব্যয়, খাদ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ নির্বাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি নিজেও আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
আবুল কালাম আরও জানান, ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় পুলিশ রিপোর্ট, বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন আত্মসাতের কারণে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শ্রমিকরা বলেন, আমরা অনেক কষ্টে আছি। কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন নিয়ে খালেক নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত ফেরত চাই। একই সঙ্গে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানাই।
প্রতিষ্ঠানের মালিক মালয়েশিয়ায় চীনা নাগরিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য আমি টাকাগুলো আব্দুল খালেকের কাছে দিয়েছিলাম। পরে সে পুরো অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি চাই, শ্রমিকরা যেন দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পায়।
আবুল কালাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কায়সার হামিদ হান্নান, মালয়েশিয়া