মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। সোমবার (৭ জুলাই) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৈরি হয় আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার ৬ বছর আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম (৬৫) ওই এলাকায় স্বামীর বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন। তার একমাত্র ছেলে সন্তান রাশেদুল ইসলাম জাকির নিজের বাড়িতে থাকেন না। তিনি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন। বৃদ্ধা রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীততারা ইউনিয়নের বাঁশনিওগী গ্রামে। তিনি তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশসূত্রে ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা পান। পরে পারিবারিকভাবে আট লাখ টাকার বিনিময়ে ওয়ারিশের ৫৬ শতাংশ জমি ভাইদের লিখে দেন। এরপর সেই আট লাখ টাকা দিয়ে নিজের নামে জমি কিনে নেন। কিন্তু ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গে আলোচনা না করে জমির প্রকৃত দামের তুলনায় কম টাকার বিনিময়ে ভাইদের জমি লিখে দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। পরবর্তী সময়ে মায়ের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হত্যা করাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন ছেলে। বিষয়টি নিয়ে মা রাশেদা বেগম এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। এ নিয়ে পরে একপর্যায়ে গেন্দারপাড়া গ্রামের বাড়ি তালা দিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। এরপর রাশেদা বেগম গেন্দারপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা গেটের তালা ভেঙে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে গতকাল সকাল থেকে আবারও শালিস শুরু হলে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মাকে চাপ দেন রাশেদুল ইসলাম জাকির। এতে রাশেদা বেগম রাজি না হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে। এরপর রাশেদা বেগমের ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় রাশেদা বেগম হাতে কোরআান শরিফ নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাই ও অন্য স্বজনরা তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আমাকে আমার স্বামীর বাড়িতে যেতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। গতকাল দুপুরে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি আমার ভাইদের জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টির খোঁজ নেব।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর