ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা হলেন মো. আরিফুল ইসলাম (৪৫)। তিনি উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার। জয়পুরহাট জেলার পাচঁবিবি উপজেলার বাসিন্দা তিনি। গোপীনাথপুর গ্রামে ভাড়া থাকতেন।
ব্যাংক ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত সোমবার (৬ জুলাই) কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। গোপীনাথপুর বাজার অতিক্রম করার পথে একদল দুবৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এলে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ব্যাংকের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হয়। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মারা যান।
উত্তরা ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখা ব্যবস্থাপক মো. শওকত হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে বাড়িতে ফেরার পথে দুবৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে কসবা হাসপাতালে নেওয় হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তার।
ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, নিহতের লাশ ঢাকায় ময়নাতদন্ত করা হবে। রাতে ব্যাংক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কেন তাকে ছুরিকাঘাত করেছে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হত্যার বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মঙ্গলবার বিকেলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। এতে বক্তব্য রাখেন–মোকাদ্দছ মেম্বার, যুবদল নেতা মাইনুল ইসলাম মৃনাল, সাবেক মেম্বার জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হাজী সফিকুল ইসলাম, সাবেক মেম্বার নবী মিয়া, ইয়াছিন সরকার, ডা. শরীফ রানা, ছাত্রনেতা রাজিবুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। খুনিদের ফাসিঁর দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

সাইদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (আখাউড়া-কসবা)