তহসিলদারের প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি বিষয়ে বিভিন্ন সেবা প্রদানে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সংক্রান্ত নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায়সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মো. মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করছেন। টাকা নেওয়ার পর তিনি তা গুনে নিজের পকেটে রেখে দিচ্ছেন। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমির সেবাগ্রহীতা মো. আলিমুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, তারা ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করছে। আমার একটি দলিলের খারিজ (নামজারি) করতে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দুটি দলিলের কথা জানালে ৯ হাজার টাকা চাওয়া হয়। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দুটি দলিলের খারিজ (নামজারি) সম্পন্ন করতে ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।
এছাড়া জামবাড়িয়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, এই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হয় এবং টাকা ছাড়া কোনো কাজই করা হয় না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন।
ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাহিন আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (গোমস্তাপুর-ভোলাহাট)