আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে জাতি হতাশ : বিএনপির মহাসচিব
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল জাতিকে হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণে কোনো দিক নির্দেশনা দিতে পারেনি এই কাউন্সিল। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে বিএনপি কাউন্সিল করতে পারছে না, তবে কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদের মৃত্যুতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব ও দলের অন্যান্য নেতারা। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। উঠে আসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল এবং সেখানে রাখা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গও।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে জাতি হতাশ। তাদের ২১তম কাউন্সিলে জাতির জন্য কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। গণতন্ত্রহীনতা থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেনি দলটি। সংবিধানকে পুরোপুরি নস্যাৎ ও উপেক্ষা করে, গণতন্ত্রহীন একটা শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আওয়ামী লীগ প্রায় এক দশক ধরে কাজ করছে। আমরা তাদের সম্মেলনে দেখতে পেলাম সেই কথাগুলোই আবার সামনে এসেছে। ফলে জাতি সম্পূর্ণভাবে হতাশ হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, জাতির একটা প্রত্যাশা ছিল যে হয়তো বা গণতন্ত্র উত্তরণের একটা পথ দেখা যাবে। কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) সম্মেলনে সেই পথ তারা দেখাতে পারেনি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক যে উন্নয়ন এবং সংকট উত্তরণে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে তারা এই সম্মেলনে ব্যর্থ হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে ব্যক্তি ও দলের প্রশংসা, যেটাকে আমরা বলি বন্দনা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জাতির যে সংকট, সেই সংকট উত্তরণের জন্য বেশি কিছু এই সম্মেলনে আসেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের যে অবস্থান অর্থাৎ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের যে গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা সেটা উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিএনপির কাউন্সিল কবে হবে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা একটা বৈরী ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করছি। আমাদের রাজনীতির জন্য যে স্পেস দরকার, আমরা এখানে পাচ্ছি না। যার ফলে আমাদের স্বাভাবিক কার্য্ক্রম আমরা পরিচালনা করতে পারি না। বেশির ভাগ জায়গায় আমাদের কাউন্সিল করতে দেওয়া হয় না। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলাগুলোতে আমাদের যে কাউন্সিল সেগুলো করতে দেওয়া হয় না। এর মধ্যেও আমরা কাজ করছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সংগঠনকে গুছিয়ে আনা হচ্ছে। আমরা যত দ্রুত সময়ে সম্ভব এটা শেষ করব। এর মধ্যেই হয়তো বা আমরা কাউন্সিল করতে চেষ্টা করব।
রাজাকারের তালিকায় ভুল-ভ্রান্তির পেছনে বিএনপি ও জামায়াত জড়িত রয়েছে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর এ রকম বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব হচ্ছে সব ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার পুরোনো পদ্ধতি। এটা নতুন কিছু না, এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা সব সময় তাদের ব্যর্থতা ও অপরাধ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে।
এর আগে দলের সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদের পরিচালনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মরহুমের জীবন-কর্ম তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
মিলাদ মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, জিয়া পরিষদের অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল কালাম আজাদসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা