আশা করব ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন : কবিতা খানম
আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বলেছেন। বলেছেন নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও। কিন্তু ভোটের মাঠে ভোটাররা আসলেই কি নিরাপদ? তারা কি পারবেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে? এসব প্রশ্ন আছে খোদ ভোটারদের মধ্যে। ভোটারদের নানা প্রশ্ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের সঙ্গে কথা বলেছে এনটিভি অনলাইন।
এনটিভি অনলাইন : নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বলেছে। আপনার কি মনে হয়, ভোটাররা আপনাদের আহ্ববানে সাড়া দেবেন?
কবিতা খানম : নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য। আমরা আশা করব ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এনটিভি অনলাইন : ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেছে ইসি। ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা আসলেই কি নিরাপদ?
কবিতা খানম : ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আয়োজক সংস্থা ইসির। তবে ইসির নিজস্ব কোনো নিরাপত্তা বাহিনী বা সংস্থা নেই। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেব ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে। আর নির্বাচনের সময়ে ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান কাজ। নির্বাচনের সময়ে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা করব।
এনটিভি অনলাইন : বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভেতরে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি লক্ষ করা গেছে। এখান থেকে উত্তরণের পথ কী?
কবিতা খানম : এই ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হতে আমাদের সবার মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এখানে সরকারেরও ইতিবাচক মনোভাব থাকা আবশ্যক বলে মনে করি। কারণ, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থী, ভোটার ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনী বা সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে ইসি মনে করে।
এনটিভি অনলাইন : গত নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদলের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এবারও যদি….
কবিতা খানম : এ রকম কোনো ঘটনা যদি এর আগে ঘটে থাকে তবে আমাদের কঠোর নির্দেশনা থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি। দ্রুতগতিতে আইনানুযায়ী ইসি ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে। তা ছাড়া নির্বাচনে যদি সব দলের অংশগ্রহণ থাকে তবে তা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সেক্ষেত্রে ভিন্নমতের মানুষ যদি ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকে তবে এসব ঘটনা প্রার্থী বা ভোটাররাই কমিয়ে আনতে পারেন। বিরোধীপক্ষগুলো সক্রিয় থাকলে কোনো একটি পক্ষ ভোটের মাঠে এককভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
এনটিভি অনলাইন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট দলের লোকজনকে অনিয়ম করতে সহযোগিতা করে এমন অভিযোগ বিরোধীরা বরাবরই করেন। এমন হলে?
কবিতা খানম : এমন ধরনের অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা নিয়োগ দেই ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য নয়, ভোটের পরিবেশ ভালো রাখার জন্য। কেউ আইনের বাইরে না।
এনটিভি অনলাইন : অনেক সময় দেখা যায়, প্রার্থীরা তাদের আচরণবিধি মানছেন না। সে রকম হলে?
কবিতা খানম : আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত উপজেলা নির্বাচনে কিন্তু আমরা কয়েকজন সংসদ সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো ও প্রভাব বিস্তারের জন্য তাদের এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলাম। সে রকম কিছু হলে এবারও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এনটিভি অনলাইন : নির্বাচনের মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে পারবে ইসি?
কবিতা খানম : লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য যা যা করা দরকার ইসি সে পথেই হাঁটবে। আর সেটা তৈরিতে যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে তাদের জন্য আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনটিভি অনলাইন : প্রার্থীদের উদ্দেশে কী বলবেন?
কবিতা খানম : আপনারা (প্রার্থী) ভোটের মাঠে থাকুন। আইন মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাঁটুন। নগরবাসীকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিন।
এনটিভি অনলাইন : আপনাকে ধন্যবাদ।
কবিতা খানম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

মাসুদ রায়হান পলাশ