আসুন দল ও নেত্রীর সম্মান রক্ষা করি : আবু সাঈদ
নিজ ছবি প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেছেন, গতকাল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আবার প্রমাণিত হলো, শেখ হাসিনাই একক এবং একমাত্র নেতা। তিনি আমাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করলেই আমরা নেতা, আমরা কিছুটা ক্ষমতা প্রাপ্ত হই। তাঁর অপরিসীম আলোয় আমরা আলোকিত। আমাদের নিজস্ব কোনো আলোকচ্ছ্বটা নেই। কেবল তাঁর আলো বর্ষিত হলে সেই আলো আমাদের শরীর থেকে প্রতিফলিত হয়।
আজ রোববার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক লেখায় আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এসব কথা বলেন।
আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তাঁর ফেসবুকে আরো লিখেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমগ্র নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা কেবলমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। আমাদের ওপর নয়। তিনি না চাইলে আমার বর্তমান পদ অব্যাহত থাকত না। তাঁর এই দানকে আমার যোগ্যতার প্রাপ্তি বলে অহঙ্কারে মাটিতে পা না পড়লে সর্বনাশ হবে আমার, ধ্বংস হবো আমি। সম যোগ্যতা বা কাছাকাছি যোগ্যতার অসংখ্য নেতাকর্মী আছেন এই বিশাল দলে।
তাহলে আমাদের কিসের এত অহঙ্কার ! কিসের এত দম্ভ !!
চারিদিকে আমাদের ছবি প্রদর্শনের কেন এত অসুস্থ প্রতিযোগিতা !!
কেন আমরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে জনমনে বিরক্তির উদ্রেক করে দল ও সরকারকে বিব্রত করি?
কেন জাতির পিতার ছবি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হয়!
কেন নেত্রীর ছোট একটি ছবি সংযোজন করে আমাদের ঢাউস সাইজের নানান ভঙ্গির ছবি টাঙ্গাই বা টাঙ্গাতে অনুমোদন দেই, উৎসাহিত করি ! কেন কোনো জেলা, উপজেলায় বা নিজ আসনে আমাদের ছবির বাহারি প্রদর্শন না করলে আমরা উষ্মা প্রকাশ করি?
কেন জাতির পিতা ও মুজিবকন্যার মাইক্রোস্কপিক ছবির সাথে আমাদের ঢাউস সাইজের ছবির নিচে সৌজন্যে একজন সমাজবিরোধী ভূমি দস্যু/মাদক ব্যবসায়ী/মাদকসেবী/চাঁদাবাজ/ক্ষমতা প্রদর্শনকারী/হাইব্রিডকে তার ছবি প্রদর্শন করতে অনূমোদন দেই? যাদের ছবি আমাদের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়, তাতে আমাদের ব্যক্তিগত ইমেজ বৃদ্ধি পায় অথবা দলের কষ্টার্জিত ভাবমূর্তি অম্লান থাকে !!
কেন বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা, মুজিবকন্যা, বীরশ্রেষ্ঠ বা মহান শহীদদের ছবির পরিবর্তে আমাদের ছবির প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করি না?
আমরা কি নিজ ছবি প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হতে পারি না?
আমরা কি কেবলমাত্র জাতির পিতা এবং বাঙালির অমূল্য সম্পদ, উন্নয়ন, মানবতা ও কল্যাণের অসীম কারিগর শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারি না?
পিতা, কন্যার অপরিসীম জনপ্রিয়তার পাশে আমাদের ছবি প্রদর্শন কি জনমনে আওয়ামী লীগের ইতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি করে, না কি দল ও আমাদের নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করে?
আসুন, সবাই একটু মানুষের মন-মানসিকতা অনুধাবন করি।
দল ও নেত্রীর সম্মান রক্ষা করি।
নেত্রীর দেওয়া সম্মান ও ক্ষমতা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করে জনতার মানসপটে নিজেদের ছবি আঁকি। সেই ছবি অমর হবে, অম্লান হবে।
বিলবোর্ড রাজনীতিবিদকে জনপ্রিয় করে না, মহৎ কর্ম ও জনসম্পৃক্ততা রাজনীতির দীর্ঘজীবন দেয়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক