আয়ে আতিকুলের চেয়ে এগিয়ে তাবিথ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের ১৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। ব্যবসা ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে আতিকের বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৫ টাকা।
অন্যদিকে উত্তর সিটিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ৩৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। ব্যবসাসহ অন্যান্য খাত থেকে তাবিথের বার্ষিক আয় চার কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯১ টাকা।
আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্বাচন কমিশনে তাঁরা দুজনই হলফনামা জমা দিয়েছেন। সেখানে দেখা যায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, আয় ও টাকার পরিমাণে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলামের চেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল।
সম্পদে এগিয়ে তাবিথ
আতিকুল ইসলাম সব মিলিয়ে চার কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক। আর ছয় কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ২৪ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে তাঁর। তবে তাবিথ আউয়ালের ৪৫ কোটি ৬০ লাখ আট হাজার ৩১৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ২৪ একর কৃষি জমি, ১৬ দশমিক ৪৮ একর অকৃষি জমি, দশমিক ৫৬ একর অন্যান্য জমি। এ ছাড়া রয়েছে ৯২৪ ও এক হাজার ৪৩ বর্গফুট আয়তনের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট।
ঋণ বেশি আতিকের
হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, আতিকুল ইসলামের হাতে নগদ আছে আট লাখ ৭৫ হাজার ৭৫৩ টাকা। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হওয়ার সুবাদে তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫৯১ কোটি ছয় লাখ ৬২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। আতিকের নামে কোনো মামলা নেই।
এদিকে তাবিথের হাতে নগদ আছে এক কোটি ৪৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৮ টাকা। তাঁর নিজের ঋণ আছে দুই কোটি ৮৮ লাখ টাকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর ঋণ আছে ৩০২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তাবিথের নামেও কোনো মামলা নেই।
আতিকের স্ত্রীর চেয়ে সম্পদে তাবিথের স্ত্রী এগিয়ে
আতিকুল ইসলামের স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৯৯ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ৩০ ভরি সোনা ও ৮২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪১ টাকা।
অন্যদিকে তাবিথের স্ত্রীর নামে আছে চার কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ। আছে ৬০ ভরি স্বর্ণও।
জমার পরিমাণেও এগিয়ে তাবিথ
আতিকুল ইসলামের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯০ টাকা। আছে এক হাজার ৫৮৩.৪৬ মার্কিন ডলার। বন্ড ও শেয়ার আছে তিন কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকার। তাঁর কোনো গাড়ি নেই।
অন্যদিকে তাবিথের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৫ টাকা। বন্ড ও শেয়ার আছে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ লাখ টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত আছে আট কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আছে একটি লেক্সাস জিপও।
আয়ও বেড়েছে তাবিথের বেশি
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়র পদে যখন উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তখন আতিকুলের যে আয় ছিল তার থেকে এখন বার্ষিক আয় বেড়েছে ২০ লাখ টাকা করে। তখন তাঁর বার্ষিক আয় ছিল এক কোটি নয় লাখ ৩১ হাজার ৯৭৫ টাকা। এখন আতিকের বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৫ টাকা। তবে এক বছরে স্থাবর সম্পদ বাড়েনি বা কমেনি।
এদিকে পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালে তাবিথ আউয়াল যখন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার বার্ষিক আয় ছিল এক কোটি ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৪ টাকা। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯১ টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক