ইসি-সরকার ব্যর্থ, ফলাফল জনগণ গ্রহণ করবে না : সিপিবি
‘ঢাকা সিটিতে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচনের প্রকাশিতব্য ফলাফল জনগণ গ্রহণ করবে না।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম আজ শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে দেওয়া প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। এবারই প্রথম পুরো ঢাকা সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। বিকেলে সাড়ে ৫টার পর থেকে প্রাথমিক ফলাফল আসতে থাকে। দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বেশ ব্যবধানেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
দুই সিটির মধ্যে সিপিবি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। সেখানে কাস্তে মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ সাজেদুল হক (রুবেল)। ভোটের পর সিপিবি প্রতিক্রিয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় বামপন্থী দলটি বলেছে, ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল জনগণের মধ্যে নানাভাবে ভয়-ভীতি সঞ্চার করায় অধিকাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করতে পারেনি। নগরীতে ভোটের নামে আরেকবার নতুন ধরনের প্রহসন সংঘটিত হতে দেখল ঢাকাবাসী।’
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “অধিকাংশ কেন্দ্রে ভয়ের পরিবেশ এবং সরকারি দলের দখলদারি সৃষ্টি করে জনমনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। ভোটকেন্দ্রের চতুর্দিকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ও সরকার দলীয় লোকজনের উপস্থিতিও মানুষকে ভোট বিমুখ করে তোলে। এ জন্য মানুষ ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের ভোটার নিশ্চিত হওয়া ছাড়া অন্যদের তাড়িয়ে দেয় সরকার দলীয় সমর্থকরা। এমনকি ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে ঢুকে, ভোটারদের ভোটটিও দিতে না দিয়ে, সরকারদলীয় কর্মীরা নিজেরাই ভোট দেওয়ার কাজটিও সম্পন্ন করে। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোট প্রদানে গোপনীয়তা বলে কোনোকিছু রক্ষা করা হয়নি। অধিকাংশ কেন্দ্রে সরকারদলীয় পোলিং এজেন্ট ছাড়া অন্যদের ঠাঁই হয়নি।”
ঢাকা উত্তরে অনেক কেন্দ্রে কাস্তে মার্কার সমর্থকদের ভোটদানে বাধা, হুমকি ও জোর করে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে সিপিবি। দলটির আরো অভিযোগ, সকাল ৮টায় উত্তরার দক্ষিণখানে সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থীর সমর্থক, কর্মী আলমগীরকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়। ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়। তেজগাঁও কাস্তে মার্কার ব্যাজধারীদের হুমকি দেওয়া হয়। সকাল ৯টায় পূর্ব রাজা বাজার রোটারি কেন্দ্রে কাস্তে মার্কার সমর্থককে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য জোর করে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট।
নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ছিল বলে অভিযোগ করেছে সিপিবি। দলটি বলেছে, ‘নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের জনৈক নেতা ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার যে কথা বলেছিল, সে বিষয়েও নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। এসব ঘটনা নতুন প্রজন্মের ভোটারদেরও ভোটদানে নিরুৎসাহিত করে তুলেছিল। যা পুরো ভোট ব্যবস্থাকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
সিপিবি নেতারা আরো বলেন, ‘এ অবস্থা বহাল থাকলে, বারবার ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ ভবিষ্যতে আরো ভোটবিমুখ হয়ে উঠবে। যা গণতন্ত্রকে আরো হুমকির মুখে ফেলবে।’

অনলাইন ডেস্ক