এমন ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি কখনোই ছিল না : মির্জা ফখরুল
বর্তমানে বাংলাদেশে যে মানবাধিকার পরিস্থিতি চলছে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনোই ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে বিএনপি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি গত ১০ বছরে শুধু ভিন্নমত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করার কারণে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষকে মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলা দেওয়া হয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৪টি। ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকার এবং আওয়ামী লীগের হাতে মারা গেছে এক হাজার ৫২৬ জন। গুম হয়েছেন আমাদের হিসাবমতে বিএনপির ৪২৩ জন, সর্বমোট ৭৮১ জন।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় গত ২০ মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলায় যাঁরা আসামি আছেন, তাঁরা সবাই জামিন পেয়েছেন এবং জামিনে আছেন। কিন্তু দেশনেত্রীকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্নভাবে সরকার তাঁর জামিনে বাধাগ্রস্ত করছে। যতটুকু জানি তাঁর যে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল, সেই মেডিকেল রিপোর্ট এখন পর্যন্ত আসেনি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যেটুকু জানি, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। সেই রিপোর্ট বাদ দিয়ে অন্য একটি রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে আমরা পরিষ্কারভাবে লক্ষ করছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটকে রাখার ব্যবস্থা করছে সরকার। এতে করে উনার যে অধিকার এবং মানবাধিকার আছে, সেটা লঙ্ঘন হচ্ছে।’
মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৫টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গত ১০ বছরে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম ও খুন হওয়া বিরোধী দলের মোট ২৭টি পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা