চার বছর পর ইজতেমায় আবার যৌতুকবিহীন বিয়ে
মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামীকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
প্রায় চার বছর বিরতি দিয়ে আবার ইজতেমায় অনুষ্ঠিত হলো যৌতুকবিহীন বিয়ে। প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে এসব বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাওলানা জোবায়ের ও মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীদের মতবিরোধের কারণে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বর ও কনেপক্ষের সম্মতিতে তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।
ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরুব্বি প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আজ শনিবার বাদ আসর ইজতেমা ময়দানের মূলমঞ্চে ৬১ জোড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিয়ে পরিচালনা করেন মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী, ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আসর বয়ান মঞ্চের পাশে বসে যৌতুকবিহীন বিয়ের আসর। কনের সম্মতিতে ও তাঁর অনুপস্থিতিতে বর এবং কনেপক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে ওই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।’
বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয় ‘মোহর ফাতেমি’র নিয়মানুযায়ী- উল্লেখ করে প্রকৌশলী মাহফুজুল রহমান আরো বলেন, ‘এ নিয়ম অনুযায়ী মোহরানার পরিমাণ ধরা হয় দেড়শ তোলা রূপা বা উহার সমমূল্য অর্থ। বিয়ের পর নব-দম্পতিদের সুখ-সমৃদ্ধিময় জীবন কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাতের মাধ্যমে দোয়া করা হয়। এ সময় মঞ্চের আশপাশের মুসল্লিদের মধ্যে খোরমা-খেজুর ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।’
ইজতেমার মুরুব্বিদের তথ্যমতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরু হয়। একই কারণে ২০১৬ থেকে আবারও চার পর্বে দুই বছরে এজতেমা আয়োজনের পরিবর্তন আনা হয়।
তাবলিগের আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভী ও মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীর বিরোধের কারণে গত বছর থেকে দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমার আয়োজন করতে শুরু করে। বিশ্ব এজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বিরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর