নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে সরকার : মির্জা ফখরুল
বর্তমান সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, আর নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আজ শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের এনআরসিকে হালকাভাবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার-এমন অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এনআরসি ভারতের নিজেদের বিষয় হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই করছেন তারা, এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার সক্ষমতা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যারা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সব ক্ষমতা পরিবর্তন চায়, করে এসেছে। আজকে সেই নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। আজকে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একজন কমিশনার বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করার জন্য যোগ্য নয়। কিন্তু তারা নির্বাচন দিচ্ছে। একটার পর একটা নির্বাচন দিচ্ছে। এটাই এদের চরিত্র। আজকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এর নতুন একটা নাম দিয়েছেন, হাইব্রিড রেজিম।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জাসদ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে গড়ে তোলার জন্য। সেই লড়াইয়ে জাসদ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। ঠিক একই কথা স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এসেও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা গণতন্ত্রকে ফেরত চাই। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক গভীর সংকট চলছে সেই সংকট সমাধান জনগণের অভ্যুত্থান বা জনগণের আন্দোলন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া আইনগত জামিন পাওয়ার যোগ্য কিন্তু তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আজকে যারা জোর করে ক্ষমতায় বসেছে তারা জানে খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের যে রাজনৈতিক নীলনকশা সেটা তারা পরিপূর্ণ করতে পারবেন না।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যে স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে, আমরা একটা স্বাধীন মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার এই স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালে সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল আওয়ামী লীগ। সেদিন তারা মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। এখন আবার তারা ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন মুখোশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। আমাদের সংবিধান, আমাদের যে শাসনতন্ত্র, এগুলোকে তারা ভেঙে-চুরে খানখান করে দিয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সংগ্রাম জয় করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা পারিনি। কিন্তু আমাদের পারতে হবে, আমাদের আরো বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে হবে। শুধু ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য কোনো জোট নয় দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা