নুরের ওপর বারবার হামলা কেন, প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘নুর কেন বারবার হামলার শিকার হচ্ছে, এটা আমাদেরও জিজ্ঞাসা।’ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের কাছে জিজ্ঞাসা করব, আপনাদের কাছে এর কোনো কারণ থাকলে, ব্যাখ্যা থাকলে আমাদের জানাবেন।’
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওয়াসা ভবনে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পঞ্চম এশিয়ান সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তাঁকে (নুর) কেন অ্যাটাক করবে, এটাও আমার জিজ্ঞাসা। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে ঢোকে না। ইউনিভার্সিটির যখনই প্রয়োজন হয়, প্রক্টর কিংবা ভিসি যখনই যাওয়ার জন্য অনুমতি দেন, তখনই কিন্তু ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশ করে। কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে আমার মনে হয় ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাটা সেখানে কার্যকর।’
এদিকে, ভিপি নুরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
এদিকে ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে এ মামলা করা হয়। এর আগে গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুনসহ দুজনকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মামলায় নাম থাকা আটজন হলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাবি শাখার সভাপতি আ স ম সনেট, মহাসচিব ইয়াসির আরাফাত তূর্য, ইমরান সরকার, ইয়াদ আল রিয়াদ, মাহবুব হাসান নিলয় ও তৌহিদুল ইসলাম মাহিম।
গত রোববার দুপুরে লাইট বন্ধ করে রড, লাঠিসোটা নিয়ে ডাকসু ভবনের ভেতরে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে ভিপি নুরসহ তাঁর সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ২০ জনের মতো আহত হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এবং ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সমর্থক শতাধিক নেতাকর্মী রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপুরে এই হামলা চালায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক