ব্যবসায়ীদের লোভ সংবরণ করতে বললেন খাদ্যমন্ত্রী
ব্যবসায়ীদের লোভ সংরবণ করার আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের লোভ সংবরণ করতে হবে। এটা ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাহারা দিয়ে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, যদি তাঁর বিবেক, মন তাঁকে পাহারা না দেয়।
আজ রোববার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, রেস্তোরাঁর ভালো মান বজায় রাখতে হবে। এখন যদি ব্যবসায়ীরা অতি লোভ ত্যাগ না পারে তাহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অনেকটাই কঠিন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
রাজধানীর হোটেল রেস্তোরাঁর মান নিয়ন্ত্রণে স্টিকার পদ্ধতির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রেস্তোরাঁয় সবুজ স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এখানকার মান এ+ (এ প্লাস) অর্থাৎ উত্তম। কমলা রঙের স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এটি অনিরাপদ। কমলা স্টিকারযুক্ত রেস্তোরাঁগুলো এক মাসের মধ্যে রেস্তোরাঁর মান ভালো না করলে বাতিল হবে তাদের লাইসেন্স। ভোক্তা ও ভোজনরসিকদের স্বার্থে ‘এ+’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এই চার ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগরীর হোটেল ও রেস্তোরাঁকে। গ্রেডিং সিস্টেমের আওতায় খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্নাঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁগুলোকে চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হবে।
এসব বিচারে ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর হলে সবুজ বর্ণের স্টিকার ‘এ+’, স্কোর ৮০ এর ঊর্ধ্বে হলে নীল বণের্র স্টিকার বা ‘এ’; ৫৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত স্কোর হলে হলুদ বর্ণের ‘বি’ এবং ৪৫ থেকে ৫৫ স্কোর হলে কমলা বণের্র ‘সি’ ক্যাটাগরি পাবে। ‘এ+’ এর মানে হচ্ছে রেস্তোরাঁটি উত্তম, এ মানে ভালো, ‘বি’ মানে গড়পড়তা ভালো এবং ‘সি’ মানে গ্রেড পেন্ডিং।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যারা খাবার খেতে যাবেন- তাঁরা রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় স্টিকার দেখেই জেনে নিতে পারবেন, এখানকার ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন, কিচেনের অভ্যন্তরের কী ধরনের দূষণ বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রয়েছে।
সবুজ রং আর নীল স্টিকারযুক্ত রেস্তোরাঁর মান নিয়ে ক্রেতাদের কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। কিন্তু হলুদ স্টিকারধারী রেস্তোরাঁকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে তাদের মান ও গ্রেড উন্নতির জন্য। একইভাবে কমলা বর্ণের রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং বাড়ানোর জন্য এক মাস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা না হলে, হোটেল-রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত গ্রেডিং পদ্ধতি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। আমরাও সেভাবেই এই হোটেল গ্রেডিং করছি। ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী রেস্তোরাঁগুলোকে এই গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা, বেকারি ও মিষ্টির দোকানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক