ভারতে তথ্য পাচারের অভিযোগে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতে পাচারের অভিযোগে দেব প্রসাদ সাহা নামের এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে যশোরে আনা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সালাউদ্দিন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দেব প্রসাদ সাহার নামে গত ১৫ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছিল।
দেব প্রসাদ সাহা খুলনার তেরখাদা উপজেলা সদরের সুরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সালাউদ্দিন শিকদার ও বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, দেব প্রসাদ সাহা ঢাকার উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বেনাপোল ইমিগ্রেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় যখন-তখন নো-ম্যান্স-ল্যান্ড অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া-আসা করতেন। বেনাপোলে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ বাহিনীর দুজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়। ওই দুজন মাঝেমধ্যে বেনাপোলে গিয়ে ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টু নামের দুজনের কাছে বাংলাদেশের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন। ২০১৮ সালের শেষের দিকে দেব প্রসাদ সাহা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত একটি পেনড্রাইভ নো-ম্যান্স-ল্যান্ড অতিক্রম করে ভারতে পাচার করেন। ১৫ দিন পর তিনি বিশেষ বাহিনীর এক সদস্যের কাছ থেকে এনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত পেনড্রাইভ ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টুর কাছে হস্তান্তর করেন। গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার কমলাপুরের একটি হোটেল থেকে ডিজিএফআই ও র্যাবের হাতে সৈনিক শাহনেওয়াজ শাহিন আটক হন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। তিনি ভারতের কাছে তথ্য পাচারের বেশ কিছু তথ্য দেন। পরে বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানে নামে। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে ভারতের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আরেফের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও সিডির মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশের তথ্য পাচারের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর দেব প্রসাদের নামে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি মামুন খান আরো জানান, দেব প্রসাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বিচারক আগামীকাল বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর