ভার্চুয়াল আদালতে শুনানির জন্য আবেদন শুরু
ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য উচ্চ আদালতে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন শুরু করেছেন আইনজীবীরা।
আজ সোমবার সকাল থেকে নির্ধারিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মক্কেলদের পক্ষে আইনজীবীরা মামলার শুনানির জন্য আবেদন করেন।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে একাধিক জামিন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে একটি করেছেন আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন। আরেকটি করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আরেকটি আবেদন করেছেন মো. শাহীন মিয়া নামের একজন আইনজীবী।
আইনজীবী শিশির মনির এনটিভি অনলাইনকে জানান, ‘ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের জামিন আবেদন করেছি। তিনি বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ। তাই তাঁর জামিন আবেদন করেছি। আশা করছি, তিনি জামিন পাবেন।’
আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন জানান, ‘প্রত্যেকটা জামিনই জরুরি। কিন্তু এক বছর ধরে আমার মক্কেল কারাগারে। তাঁর জামিন দরকার। এ জামিন আবেদন আগেও করেছিলাম। কিন্তু তখন শুনানি হয়নি।’
ভার্চুয়াল কোর্টের বিষয়ে আইনজীবী বলেন, পৃথিবীর অন্য দেশে আগে থেকে ছিল। এটা সময়ের দাবি। আমরা একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে শুরু করেছি। এটা ভালো উদ্যোগ।
তবে শাহীন মিয়া বলেন, ‘আমি ই-মেইলে একটি সামারি পাঠিয়েছি। যদি ভালো ফিডব্যাক পাই, তাহলে পরিপূর্ণ জামিন আবেদন করব।’
এখন এসব আবেদন কতটুকু জরুরি তা যাচাইয়ের পর শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে কজলিস্টে তালিকাভুক্ত হবে। এরপর ভিডিও কনফারেন্সে নির্ধারিত সময়ে আবেদনের ওপর শুনানি হবে। যেখানে আদালত, আবেদনকারীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ যুক্ত থাকবেন।
সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশের অধঃস্তন আদালত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। এজন্য হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চ গঠন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এসব আদালতে শুধু জরুরি বিষয়াদি শুনানি হবে। অপরদিকে নিম্ন আদালতে শুধু জামিন শুনানির জন্য চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতির নেত্বত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি আগামী ১৪ ও ২০ মে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।
প্রজ্ঞাপনে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অতীব জরুরি সব ধরনের রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং তৎসংক্রান্ত আবেদনপত্র নেবেন।
অতীব জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন এবং তৎসংক্রান্ত আবেদনপত্র নেবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ ছাড়া বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সাকশেসন আইন, অ্যাডমিরালিটি কোর্ট আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইনসসহ কয়েকটি আইনের অধীনে আবেদনপত্র, আপিল শুনানি গ্রহণ করবেন।
অপরদিকে নিম্ন আদালতের জন্য জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারকাজ চালানোর বিষয়ে অধ্যাদেশ জারির পরদিন নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সব আদালতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক