মঞ্চ সেজেছে নৌকা, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে
হঠাৎ দেখলে মনে হবে বিশাল নৌকা। আসলে এটি মঞ্চ। মূল মঞ্চটি ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত। মঞ্চের সামনের অংশটুকু খালি। সেখানেও আছে ছোট ছোট নৌকা। আর ওই খালি জায়গার ওপর ৪০টি পিলারের ওপর দাঁড়ানো পদ্মা সেতুর মডেল। একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে মঞ্চের সামনে পদ্মা নদী; যার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট-বড় নৌকা আর তার ওপরে পদ্মা সেতু।
শুধু তাই নয় মঞ্চের ওপরই আছে স্যাটেলাইটের মডেল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উপস্থিতিও নজরে এলো।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এভাবেই করা হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ। আগামীকাল শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মেলন ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ বৃহস্পতিবার দেখা গেল প্রস্তুত হয়েছে মঞ্চ। নৌকা ও পদ্মাসেতুর উপস্থিতি মঞ্চটিকে করেছে অনন্য।
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটি যেমন পুরোনো তেমনি রয়েছে তার ঐতিহ্য। এবার মঞ্চ কেমন হবে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক এনটিভি অনলাইকে বলেন, ‘পদ্মার বুকে পাল তোলা নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে এবারের মঞ্চ।’
জানা গেছে, মূল মঞ্চটি হবে ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত। মঞ্চের দিকে তাঁকালেই দেখা যাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। আরো আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। মঞ্চে আছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মডেল।
মঞ্চের এক পাশে আছে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি। অন্যপাশে আছে জাতীয় চার নেতার ছবি। তাঁরা হলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান।
শতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী নিরলস পরিশ্রম করে দাঁড় করিয়েছেন এমনই একটি আকর্ষণীয় মঞ্চ।
মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির দায়িত্বে থাকা একাধিক নেতাকর্মী জানান, দলের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের মঞ্চ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে আরো আগে থেকেই। আশপাশের এলাকাসহ মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হবে, যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি বিশাল নৌকা। সেই নৌকার চারপাশজুড়ে থাকছে পদ্মার বিশাল জলরাশি। এর মধ্যে থাকছে স্বপ্নের পদ্মাসেতুও। এ ছাড়া পদ্মার জলতরঙ্গ, পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট নৌকা, এমনকি চরের মধ্যে কাশবনের দৃশ্যকে ফুঁটিয়ে তোলার প্রয়াস চলছে।
মঞ্চের যে নৌকাটি, সেটিও কোনো সাধারণ নৌকা হবে না। এই নৌকায় থাকবে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। সম্মেলনস্থলে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ফেস্টুন ও উন্নয়নের ছবি তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনের দিন
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেড়শো আলোকচিত্র সংবলিত একটি অ্যালবাম বিতরণ করা হবে। সম্মেলনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ২৫ হাজার পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হবে জানিয়েছেন দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাগে আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংবলিত স্মরণিকা, শোকপ্রস্তাব, দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভাষণ এবং গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র থাকবে, এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্রের একটি পকেটবুক, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়েতের নেতিবাচক রাজনীতির দুটি ডিভিডি, দুটি চকলেট ও একটি পানির বোতল ওই ব্যাগে থাকবে।’
এ ছাড়া সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের জন্য খাবার ও উপহারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিযেছেন খাদ্য উপকমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন ‘সম্মেলনের প্রথম দিন ২০ ডিসেম্বর ৪৫ হাজার নেতাকর্মীর দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ খাবারের ব্যাগে মোরগ-পোলাওয়ের সাথে একটি করে ডিম ছাড়াও ফিন্নি ও একটি পানির বোতল দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ফখরুল ইসলাম (শাহীন)