‘মানুষকে বন্দি করে ভোট চুরির মহোৎসব হয়েছে’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই জানি এই দিনে আমাদের দেশে কী হয়েছিল। মানুষ চুরি করে, বাংলাদেশের শাসকরাও চুরি করে। কিন্তু এই দেশের ১৬ কোটি মানুষকে বন্দি করে ভোট চুরির মহোৎসব বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কখনও দেখে নাই। আমাদের জন্য একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল যেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই।’
আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘আমরা ২০১৪ সালে দেখেছি, রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৮ সালে আমরা দেখলাম, ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। আমার আশঙ্কা হয়, আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেটা মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র দিয়ে চুরি করা হবে।’
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে আজ সোমবার ‘গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলন’ মঞ্চের ব্যানারে সমাবেশ করেছে কয়েকটি সরকারবিরোধী দলের নেতারা।
রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে ট্রাকের উপর মঞ্চ বানিয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই ড. আসিফ নজরুল এসব কতা বলেন। এই মঞ্চ থেকে নতুন করে সরকার পতনের জন্য জনগণকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা দেখছি, প্রত্যেক সপ্তাহে ক্ষমতাশীন দল সভা-সমাবেশ করে। কিন্তু কোনদিন কি শুনেছেন বা দেখেছেন পুলিশের অনুমতি নিয়ে তাঁরা কর্মসূচি করেছেন? আর বিরোধী দল কোথাও কোনো সভা-সমাবেশ করতে হলে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। পুলিশের কাছ থেকে কেন অনুমতি নিতে হবে? এই প্রশ্ন তোলার মতো ব্যবস্থা আমাদের দেশের আইন-আদালতের মধ্যে নাই। আজকে আমরা একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি। আমি চাই আমার ভোট দিতে, আমি আমার গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।’
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, এই সরকার লুটপাট করে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। এতো কিছুর পরেও তারা বলে আমরা লুটপাট করি না। এতো সুন্দর করে বলে যে, শুনলে হাসি পায়। তাদের বক্তব্য শুনলে ক্লাশ ওয়ানের বাচ্চারাও টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।
আ স ম রব আরো বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক জায়গায় ভোট চুরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ভোট ডাকাতি হয়েছে। সারা পৃথিবীতে ভোট হয় দিনের বেলা। আর বাংলাদেশে ভোট নিয়ে গেছে রাতের বেলা।’
সরকারকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেএসডি প্রধান বলেন, ‘আপনারা তো যাবেনই। তবে ভদ্রভাবে যাবেন, না অভদ্রভাবে যাবেন সেটা ডিসাইড করেন। আপনাদের যেতে হবে। আপনাদের আর থাকার কোনো সুযোগ নাই। সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কিভাবে যাবেন সেটার সিদ্ধান্ত নেন।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি নূর হোসেন কাসেমি, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, শওকত মাহমদু, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদদাতা